রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক:
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশে আগামী সপ্তাহে আলাদা ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন এই ইউনিটের শাখা মেট্রোপলিটন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে থাকবে। পাশাপাশি থানা ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম দিয়ে ইউনিটকে শক্তিশালী করা হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী সপ্তাহে একটি পৃথক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এ ইউনিটের নেতৃত্বে একজন অতিরিক্ত আইজিপি থাকবেন। পুলিশ সদর দপ্তরে এ পদের ব্যবস্থা না থাকলে নতুন করে পদ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, নতুন ইউনিটের শাখা মেট্রোপলিটন, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে থাকবে। থানা ও জেলা পর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি রাখা হবে। বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাব এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা সদর দপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ে রাখা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউনিট গঠনের প্রকল্প প্রণয়নের জন্য কয়েক সপ্তাহ আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব সাইবার অপরাধ জটিল ও বড় পরিসরের হবে, সেগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আনা হবে। আর থানা, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব এমন বিষয় সংশ্লিষ্ট পর্যায়েই বিশ্লেষণ ও তদন্ত করা হবে।
সাইবার অপরাধের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ আধুনিক অপরাধপ্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ কারণে সাইবার নিরাপত্তাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
পুলিশে জনবল নিয়োগের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পদে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা ও সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পৃথক ইউনিট চালুর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের আস্থা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যকারিতার জন্য জনগণের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।