মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

ইরানের আকাশে অদ্ভুত উড়ন্ত বস্তু, রহস্যের সমাধান হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে উজ্জ্বল বহু রঙের আলো ছড়ানো একটি রহস্যময় বস্তু দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা। কিছু সময় আকাশে ভেসে থাকা বস্তুটির দৃশ্য অনেকের কাছে কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার মতো মনে হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত অত্যন্ত গোপন উড়োজাহাজ ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন সরকার কখনো ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নামে কোনো উড়োজাহাজের অস্তিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তেহরানের আকাশে দেখা বস্তুটির সঙ্গে কথিত এই বিমানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

গত ২০ সেপ্টেম্বর তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছে প্রথমবার বস্তুটিকে আকাশে দেখা যায় বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ধারণ করা ভিডিওতে বড় আকারের অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি উড়ন্ত বস্তু এবং তাতে বিভিন্ন রঙের আলো দেখা যায়।

এর একদিন পর, ২১ সেপ্টেম্বর ইরানের জাহেদান শহরের আকাশে অস্বাভাবিক আলোর আরেকটি গুচ্ছ দেখা যাওয়ার ভিডিও সামনে আসে। এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বস্তুগুলো কী—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি উঠেছে।

কেউ কেউ তেহরানের আকাশে দেখা বস্তুটিকে ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ বলে দাবি করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানের সামরিক বাহিনী বা সরকারও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

কী এই ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’?

‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’ নামে একটি কথিত মার্কিন উড়োজাহাজ নিয়ে বহু বছর ধরেই নানা দাবি ও জল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন বর্ণনায় এটিকে কালো ও ত্রিভুজাকৃতির একটি উড়ন্ত বস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়, যার বিভিন্ন অংশে উজ্জ্বল আলো দেখা যায়।

কথিত এই উড়োজাহাজ সম্পর্কে দাবি রয়েছে, এটি আকাশে প্রায় স্থির অবস্থায় থাকতে পারে এবং দ্রুত গতি ও দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম। এমনকি ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো দাবিও রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক বা সরকারি প্রমাণ নেই।

২০২১ সালে ইরানের কিছু গণমাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ওপর ত্রিভুজাকৃতির একটি বস্তুর ছবি প্রকাশের পর ‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সিও তখন ধারণা প্রকাশ করেছিল, বস্তুটি কথিত ‘টিআর-৩ ব্ল্যাক মান্টা’ হতে পারে।

তবে এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ প্রযুক্তির দাবি

‘ব্ল্যাক মান্টা’ নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন তত্ত্বে বলা হয়, কথিত উড়োজাহাজটিতে উন্নত থ্রাস্ট ব্যবস্থা বা অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি প্রযুক্তি থাকতে পারে। কিছু অনুমানভিত্তিক তত্ত্বে পারমাণবিক শক্তি ও প্লাজমা ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।

তবে এগুলো প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি নয়। প্রকাশ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ব্ল্যাক মান্টা’তে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো তথ্য নেই।

রহস্যময় ত্রিভুজাকৃতির বিমান দেখার দাবি

আকাশে কালো ও ত্রিভুজাকৃতির রহস্যময় বস্তু দেখার দাবি নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনার সবকটিকে একই ধরনের কোনো গোপন উড়োজাহাজের সঙ্গে যুক্ত করার মতো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিসকভারি সায়েন্সও অতীতে এ ধরনের রহস্যময় উড়ন্ত বস্তু নিয়ে অনুসন্ধান করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে কার্যক্রম বন্ধ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপ থেকে এ ধরনের ১৫০টির বেশি দেখার প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অনুসন্ধান থেকেও ‘টিআর-৩বি ব্ল্যাক মান্টা’র অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়নি।

গোপন বিমান নিয়ে কেন জল্পনা?

অবশ্য মার্কিন সামরিক ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে, যখন অত্যাধুনিক কিছু উড়োজাহাজের অস্তিত্ব দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়েছিল। এর অন্যতম উদাহরণ এফ-১১৭ নাইটহক। বিভিন্ন সময় বিমানটির মতো ত্রিভুজাকৃতির উড়ন্ত বস্তু দেখার দাবি উঠলেও মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এফ-১১৭-এর অস্তিত্ব স্বীকার করে ১৯৮৮ সালে।

এই ইতিহাসের কারণে তেহরানের আকাশে দেখা অস্বাভাবিক কোনো বস্তু নিয়ে গোপন মার্কিন প্রযুক্তির আলোচনা নতুন করে সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে তেহরানের সাম্প্রতিক ঘটনার ক্ষেত্রে বস্তুটি আসলে কী ছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

ফলে ‘ব্ল্যাক মান্টা’র সঙ্গে তেহরানের আকাশে দেখা বস্তুটির সম্পর্কের দাবি আপাতত প্রমাণিত তথ্যের চেয়ে জল্পনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

© All rights reserved © 2026 দৈনিক নতুন সকাল
Design & Developed BY https://starwebhostit.com/