বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...
সংবাদের শিরোনাম :
প্রথম সফরেই পাহাড়ের মানুষের দুয়ারে চেয়ারম্যান মাম্যাচিং রোয়াংছড়ি-রুমায় নতুন পরিষদকে ঘিরে প্রত্যাশার ঢেউ | শিক্ষা-স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নিরাপদ পানিতে অগ্রাধিকার চান স্থানীয়রা জ্বালানি তেলে লোকসান কমাতে দাম সমন্বয়: তথ্য উপদেষ্টা শিশু রুহি হত্যা: মাটির নিচ থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, মা-সহ গ্রেপ্তার ৩ দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা হলে বিএনপি বসে থাকবে না: রিজভী বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি, ডলার ১২২.৭২ টাকা ইরানের আকাশে অদ্ভুত উড়ন্ত বস্তু, রহস্যের সমাধান হয়নি ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল সালমানের মন্তব্যে সিদ্ধার্থ-কিয়ারার দ্বিতীয় সন্তান নিয়ে জল্পনা বিদেশ যেতে কল্যাণ ফি দিতে হবে ৫৫০০ টাকা

প্রথম সফরেই পাহাড়ের মানুষের দুয়ারে চেয়ারম্যান মাম্যাচিং রোয়াংছড়ি-রুমায় নতুন পরিষদকে ঘিরে প্রত্যাশার ঢেউ | শিক্ষা-স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নিরাপদ পানিতে অগ্রাধিকার চান স্থানীয়রা

oplus_0

স্টাফ রিপোর্টার:-

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সরকারি সফরেই দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের কাছে ছুটে গেলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। রোজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ২০২৬খ্রী: রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলা সফরের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের যাত্রা শুরু করেছেন তিনি। নতুন পরিষদের প্রথম সফরকে ঘিরে দুর্গম পাহাড়ে দেখা দিয়েছে নতুন প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নিরাপদ পানি ও কৃষিসহ জনসেবার সংকট এবার অগ্রাধিকার পাবে।

বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোর একটি দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা। বর্ষা এলে অনেক পাহাড়ি সড়কে চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে প্রত্যন্ত পাড়ার মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া, কৃষিপণ্য বাজারজাত করা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এসব বাস্তব সমস্যা সরেজমিনে দেখা এবং স্থানীয় মানুষের কথা শোনার সুযোগ হিসেবেই চেয়ারম্যানের প্রথম সফরকে দেখছেন বাসিন্দারা।

প্রথম সফরেই নজর দুর্গম জনপদে

গত ২০ আগস্ট মাম্যাচিংকে চেয়ারম্যান করে ১৪ সদস্যের সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ১১তম অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করে সরকার। ২৪ আগস্ট নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার দুর্গম দুই উপজেলা রোয়াংছড়ি ও রুমায় সরকারি সফরের কর্মসূচি নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জেলা শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে পাহাড়ের প্রত্যন্ত পাড়াগুলোর বাস্তব চাহিদা এবার আরও গুরুত্ব পাবে।
শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে যোগাযোগ—দাবি অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়নের

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম এলাকার মানুষের প্রয়োজন একাধিক। অনেক জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের।
তাদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান সফরকালে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবেন। পরে বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা আরও মনে করছেন, দুর্গম পাহাড়ে একটি প্রকল্পের সাফল্য শুধু বরাদ্দ বা কাজ শুরুর ওপর নির্ভর করে না; প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, বাস্তবায়নের মান এবং কাজের পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।
নতুন পরিষদ ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা শহরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার, দুর্গম এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, বান্দরবানের পাহাড়ি-বাঙালিসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্প্রীতি এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও নতুন পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ
রোয়াংছড়ি ও রুমার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লুসাই মং, জসিম উদ্দিন তুষার, চ নু মং মার্মা, মাওসেতু তংচঙ্গা ও অ্যাডভোকেট উমাচিং মার্মাসহ পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুমা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জিংসমলিয়ন বম।
এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র-জুনিয়র নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিক সফর নয়, বাস্তব পরিবর্তন চান মানুষ

চেয়ারম্যান মাম্যাচিংয়ের প্রথম রোয়াংছড়ি-রুমা সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মূল প্রত্যাশা—সফরটি যেন শুধু আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে সীমাবদ্ধ না থাকে। পাহাড়ের প্রত্যন্ত মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হোক।
স্থানীয়দের আশা, প্রথম সফরে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা কাজে লাগিয়ে নতুন পরিষদ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নিরাপদ পানি, কৃষি ও জনসেবায় কার্যকর উদ্যোগ নেবে। আর সেই উদ্যোগের সুফল জেলা শহরের বাইরে পৌঁছাবে রোয়াংছড়ি-রুমার দুর্গম পাহাড়ি পাড়া পর্যন্ত।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

© All rights reserved © 2026 দৈনিক নতুন সকাল
Design & Developed BY https://starwebhostit.com/