অনলাইন ডেস্ক:
বিরোধী দলের ‘এক দফা’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিতে বিএনপি চুপচাপ বসে থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি রাজপথে সক্রিয় থাকবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আয়োজনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিনে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনেও ‘এক দফা’ প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন রিজভী।
রিজভী বলেন, “আপনারা ভয় দেখান, এক দফার। আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব—এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনারা রাজনীতি করেন, পার্লামেন্টে কথা বলেন, বাইরেও কথা বলেন—তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না।”
দেশ অস্থিতিশীল করার দায় বিরোধী দলেরও রয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর দাবি, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, এসব ঘটনা শুধু পলাতক ফ্যাসিস্টদের কাজ কি না, নাকি নতুন করে কেউ তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একটি ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিরোধী দলের ‘এক দফা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “আপনাদের এক দফার কথা শুনে আমরা কি গলিতে গিয়ে দাঁড়াব, নাকি প্রাচীরে লাফ দেব?” তিনি দাবি করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শহীদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে বিএনপি ১৭ বছর আন্দোলন করেছে উল্লেখ করে রিজভী বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন—তারা কতদিন আন্দোলন করেছে, তার তালিকা দিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি ও বিএনপির জোট সরকার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এসব উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে এর নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।