সোমবার, ২১শে মে, ২০১৮ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৫৪
শিরোনাম
Wednesday, March 8, 2017 4:39 am | আপডেটঃ March 08, 2017 4:44 AM
A- A A+ Print

বাস থেকে নেমে পুলিশের ওপর বোমা, গ্রেপ্তার ২

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় অতিরিক্ত গতির যান চিহ্নিত ও তল্লাশির জন্য চৌকি বসিয়েছিল হাইওয়ে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে শ্যামলী পরিবহনের একটি কোচ থামায় পুলিশ। এরপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা গাড়িটিতে তল্লাশির জন্য উঠতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে বাস থেকে নামেন দুই তরুণ যাত্রী। তাঁরা পুলিশের দিকে ছয়টি বোমা ছুড়ে মারেন। তবে তা বিস্ফোরিত হয়নি।
পরে পুলিশ একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। তাঁর নাম জসীম উদ্দীন (২৪)। স্থানীয় লোকজন মো. হাসান (২২) নামের আরেকজনকে ধরে পুলিশের হাতে দেয়। আহত এই দুই যুবককে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ দাবি করছে, তাঁরা জঙ্গি ও জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

মহাসড়ক পুলিশের দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে কুটুম্বপুর এলাকা দিয়ে শ্যামলী পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৪৬৬১) যাত্রীবাহী একটি বাস দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা গতি নির্ণয় ও তল্লাশি চালানোর জন্য মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বাসটি থামান। পুলিশের সদস্য সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা তল্লাশি করতে বাসে উঠতে গেলে কালো টি-শার্ট ও মোবাইল প্যান্ট দুই তরুণ দুটি স্কুলব্যাগ নিয়ে বাস থেকে নেমে দৌড় দেন। তখন পুলিশও তাঁদের পিছু নেয়। একপর্যায়ে জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ করে প্রথমে একটি এবং পরে আরও পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করে। কিন্তু বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। যে কারণে কেউ হতাহত হননি। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী সংগঠিত হয়ে জঙ্গিদের ধাওয়া করে। এ সময় জঙ্গিরা মহাসড়কের উত্তর পাশে ধানখেতের মধ্য দিয়ে দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর মসজিদের সামনে যায়। পুলিশ শর্টগানের ২৪টি গুলি ছোড়ে। এ সময় জসিম উদ্দিনের শরীরে গুলি লাগে। আর হাসানকে এলাকার লোকজন ধরে ফেলেন। এ সময় একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে তাঁদের চিকিত্সা চলছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হাসানের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে। তবে জসিমের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ঘটনা নিয়ে কুটুম্বপুর গ্রামের আবদুল কাদের (৪৮) বলেন, ‘পুলিশ আমাদের ডাকলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে জঙ্গিদের ধাওয়া করি। এরপর তাদের ধরা হয়। জঙ্গিরা বোমা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।’ একই গ্রামের আবদুল্লাহ (৩০) বলেন, ‘শোরগোল শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে দেখি দুই ব্যক্তি দৌড়াচ্ছে। পরে জানলাম তারা জঙ্গি।’

বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কুটুম্বপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে তিনটি এবং দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর এলাকার ধানিজমিতে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় প্রচুর উত্সুক মানুষ ভিড় করে। তখন কিছুক্ষণের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপর দুটি বোমা মহাসড়কের পাশের খাদের পানিতে পড়ে।এদিকে বিকেলে খবর পেয়ে মহাসড়ক (হাইওয়ে) পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, কুমিল্লা অঞ্চলের মহাসড়ক পুলিশের সুপার মো. রেজাউল করিম, জেলা ও থানা পুলিশের সদস্য, ঢাকা মহানগর ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয় শাখার সদস্য ও ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।

হাইওয়ের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠী নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য ওই বোমা বহন করছিল। এরা যে জঙ্গি এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মহাসড়ক পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থল ও আশপাশে আরও বোমা আছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

বাস থেকে নেমে পুলিশের ওপর বোমা, গ্রেপ্তার ২

Wednesday, March 8, 2017 4:39 am | আপডেটঃ March 08, 2017 4:44 AM

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় অতিরিক্ত গতির যান চিহ্নিত ও তল্লাশির জন্য চৌকি বসিয়েছিল হাইওয়ে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে শ্যামলী পরিবহনের একটি কোচ থামায় পুলিশ। এরপর একজন পুলিশ কর্মকর্তা গাড়িটিতে তল্লাশির জন্য উঠতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে বাস থেকে নামেন দুই তরুণ যাত্রী। তাঁরা পুলিশের দিকে ছয়টি বোমা ছুড়ে মারেন। তবে তা বিস্ফোরিত হয়নি।
পরে পুলিশ একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। তাঁর নাম জসীম উদ্দীন (২৪)। স্থানীয় লোকজন মো. হাসান (২২) নামের আরেকজনকে ধরে পুলিশের হাতে দেয়। আহত এই দুই যুবককে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ দাবি করছে, তাঁরা জঙ্গি ও জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

মহাসড়ক পুলিশের দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে কুটুম্বপুর এলাকা দিয়ে শ্যামলী পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৪৬৬১) যাত্রীবাহী একটি বাস দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা গতি নির্ণয় ও তল্লাশি চালানোর জন্য মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে বাসটি থামান। পুলিশের সদস্য সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা তল্লাশি করতে বাসে উঠতে গেলে কালো টি-শার্ট ও মোবাইল প্যান্ট দুই তরুণ দুটি স্কুলব্যাগ নিয়ে বাস থেকে নেমে দৌড় দেন। তখন পুলিশও তাঁদের পিছু নেয়। একপর্যায়ে জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ করে প্রথমে একটি এবং পরে আরও পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করে। কিন্তু বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। যে কারণে কেউ হতাহত হননি। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী সংগঠিত হয়ে জঙ্গিদের ধাওয়া করে। এ সময় জঙ্গিরা মহাসড়কের উত্তর পাশে ধানখেতের মধ্য দিয়ে দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর মসজিদের সামনে যায়। পুলিশ শর্টগানের ২৪টি গুলি ছোড়ে। এ সময় জসিম উদ্দিনের শরীরে গুলি লাগে। আর হাসানকে এলাকার লোকজন ধরে ফেলেন। এ সময় একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে তাঁদের চিকিত্সা চলছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হাসানের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে। তবে জসিমের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ঘটনা নিয়ে কুটুম্বপুর গ্রামের আবদুল কাদের (৪৮) বলেন, ‘পুলিশ আমাদের ডাকলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে জঙ্গিদের ধাওয়া করি। এরপর তাদের ধরা হয়। জঙ্গিরা বোমা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।’ একই গ্রামের আবদুল্লাহ (৩০) বলেন, ‘শোরগোল শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে দেখি দুই ব্যক্তি দৌড়াচ্ছে। পরে জানলাম তারা জঙ্গি।’

বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কুটুম্বপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে তিনটি এবং দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর এলাকার ধানিজমিতে একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় প্রচুর উত্সুক মানুষ ভিড় করে। তখন কিছুক্ষণের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপর দুটি বোমা মহাসড়কের পাশের খাদের পানিতে পড়ে।এদিকে বিকেলে খবর পেয়ে মহাসড়ক (হাইওয়ে) পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, কুমিল্লা অঞ্চলের মহাসড়ক পুলিশের সুপার মো. রেজাউল করিম, জেলা ও থানা পুলিশের সদস্য, ঢাকা মহানগর ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের বোমা নিষ্ক্রিয় শাখার সদস্য ও ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।

হাইওয়ের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ কোনো গোষ্ঠী নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য ওই বোমা বহন করছিল। এরা যে জঙ্গি এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মহাসড়ক পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থল ও আশপাশে আরও বোমা আছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’

Comments

comments

X