বৃহস্পতিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:২৩
শিরোনাম
Friday, August 4, 2017 11:46 pm | আপডেটঃ August 04, 2017 11:58 PM
A- A A+ Print

স্বামী-স্ত্রী-সন্তান ছাড়া গ্রিনকার্ড বন্ধে বিল ;পয়েন্টের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের পর এবার বৈধ অভিবাসী কমানোর দিকে নজর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী অভিবাসন আইন ঢেলে সাজাতে বুধবার সিনেটে নতুন একটি বিল উঠেছে। বিলটিতে পারিবারিক কোটায় গ্রিনকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত করা, শরণার্থীর সংখ্যা কমানো, ডিভি (ডাইভারসিটি ভিসা) লটারি বন্ধ করাসহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বৈধ অভিবাসন কমিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার আদলে পয়েন্টের ভিত্তিতে অভিবাসনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রিপাবলিকান দলীয় আরকানসাসের সিনেটর টম কটন ও জর্জিয়ার সিনেটর ডেভিড পারডু সিনেটে বিলটি তুলেছেন। ‘রিফর্মিং আমেরিকান ইমিগ্রেশন ফর স্ট্রং ইকোনমি (রেইজ) অ্যাক্ট’ নামের এই বিল আইনে পরিণত হলে পারিবারিক কোটায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা গ্রিনকার্ডধারীরা কেবল তাঁদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারবেন। ভাই-বোন, ভাগ্নে-ভাগ্নি, দুলাভাই, দাদা-দাদি, নানা-নানিকে আনার বর্তমান সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

বিলটিতে আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা অর্ধেকে নামানোর কথা বলা হয়েছে। ভিসা

দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলটিতে এমন সব মানদণ্ডের কথা বলা আছে, যা অর্জন করা প্রার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এসব মানদণ্ডে যাঁরা সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাবেন, তাঁদের ভেতর থেকে বছরে এক লাখ ৪০ হাজার প্রার্থীকে মার্কিন ভিসা দেওয়া হবে। এসব মানদণ্ডের মধ্যে প্রার্থীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজিতে দক্ষতা থেকে শুরু করে আছে নোবেল পুরস্কারও। অর্থাৎ বিলটি আইনে পরিণত হলে স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজিতে দক্ষতা, উচ্চ বেতনে চাকরির অভিজ্ঞতা, তুলনামূলকভাবে কম বয়স ও পেশাগতভাবে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্নরা অগ্রাধিকার পাবেন।

সেই সঙ্গে বছরে ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

প্রার্থীর বয়স : একজন প্রার্থীর সবচেয়ে কর্মক্ষম বয়সকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এই বিলে। কোনো প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ২১ বছর হলে তিনি ছয় পয়েন্ট পাবেন। আট পয়েন্ট পাবেন ২২ থেকে ২৫ বছরের প্রার্থীরা। সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১০ পয়েন্ট দেওয়া হবে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের। আবার বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে পয়েন্ট কমতে থাকবে। সে ক্ষেত্রে ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা পাবেন আট পয়েন্ট। ছয় পয়েন্ট জুটবে ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের। এরপর ৪১ থেকে ৪৫ এবং ৪৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রার্থীরা পাবেন যথাক্রমে চার ও দুই পয়েন্ট। ১৮ বছরের কম কিংবা ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারলেও এই ক্যাটাগরিতে তাঁরা কোনো পয়েন্ট পাবেন না।

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট দেওয়া হবে শিক্ষাগত ডিগ্রির ওপর ভিত্তি করে। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিদেশি সমমানের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনকারী প্রার্থী পাবেন এক পয়েন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে পাওয়া যাবে পাঁচ পয়েন্ট। ছয় পয়েন্ট মিলবে এই ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের হলে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির ক্ষেত্রেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে (৭ পয়েন্ট) যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় বেশি পয়েন্ট (৮) পাবে। বিদেশি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থী পাবেন ১০ পয়েন্ট। আর এই ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্রে পেলে মিলবে বাড়তি তিন পয়েন্ট।

ইংরেজিতে দক্ষতা : একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডে এখানে প্রার্থীর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা দেখা হবে। তাতে দক্ষতা ৬০ শতাংশের কম হলে কোনো পয়েন্ট মিলবে না। ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ হলে মিলবে ছয় পয়েন্ট। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হলে এই পয়েন্ট হবে ১০। আর ৯০-এর ওপরে হলে ১১ পয়েন্ট। ১২ পয়েন্ট পাওয়া যাবে দক্ষতা শতভাগ হলে।

চাকরির প্রস্তাব : একজন প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে কী ধরনের চাকরির প্রস্তাব পেয়েছে, তার ওপর পয়েন্ট দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে যে অঙ্গরাজ্যে প্রার্থী চাকরি করবেন, মোট বেতন ওই অঙ্গরাজ্যের মধ্যম আয়ের দেড় গুণ হলে মিলবে পাঁচ পয়েন্ট। আট পয়েন্ট ও ১২ পয়েন্ট পাওয়া যাবে যথাক্রমে দ্বিগুণ ও তিন গুণ হলে।

নোবেল পুরস্কার : বড় কোনো সম্মাননা থাকলে প্রার্থী বোনাস পয়েন্ট পাবেন। সে ক্ষেত্রে নোবেল কিংবা এ রকমের কোনো বড় পুরস্কার থাকলে প্রার্থী ২৫ পয়েন্ট পাবেন। অলিম্পিক কিংবা সমমানের কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী প্রার্থীকেও দেওয়া হবে ১৫ পয়েন্ট।

বিনিয়োগ : যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ১৩ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলে একজন প্রার্থী ছয় পয়েন্ট পাবেন। আর এই পয়েন্ট ১২ হয়ে যাবে যদি বিনিয়োগের পরিমাণ ১৮ লাখ ডলার হয়।

স্বামী বা স্ত্রী সঙ্গে নিলে : বিলে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি তাঁর দাম্পত্য সঙ্গীকে সঙ্গে নিতে চান, সে ক্ষেত্রে উল্লিখিত মানদণ্ডে ওই সঙ্গীর পয়েন্টও হিসাব করে দেখা হবে।

ট্রাম্প ও তাঁর নীতিনির্ধাকরা বলছেন, এই বিল আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রে খেটে খাওয়া মানুষের বেকারত্বের হার কমবে এবং একই সঙ্গে মজুরিও বাড়বে। পাশাপাশি মেধাবী ও দক্ষ বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।

বিলটির অন্যতম প্রস্তাবক সিনেটর ডেভিড পারডু বলেন, ‘প্রচলিত অভিবাসন নীতির মাধ্যমে আমরা নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছি। নিম্ন আয় আর নির্ভরশীল অভিবাসীরা এ দেশের বোঝা ছাড়া আর কিছুই না। যুক্তরাষ্ট্রের দরজা এখন থেকে তাদের জন্যই খোলা থাকবে যারা বৈধ উপায়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে, নিয়মিত কর দেবে। ’

প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে প্রবাসীরা। পারিবারিক কোটায় অভিবাসন হ্রাসের প্রস্তাবে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অনেকের মতে, বিলটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

স্বামী-স্ত্রী-সন্তান ছাড়া গ্রিনকার্ড বন্ধে বিল ;পয়েন্টের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব

Friday, August 4, 2017 11:46 pm | আপডেটঃ August 04, 2017 11:58 PM

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের পর এবার বৈধ অভিবাসী কমানোর দিকে নজর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী অভিবাসন আইন ঢেলে সাজাতে বুধবার সিনেটে নতুন একটি বিল উঠেছে। বিলটিতে পারিবারিক কোটায় গ্রিনকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সীমিত করা, শরণার্থীর সংখ্যা কমানো, ডিভি (ডাইভারসিটি ভিসা) লটারি বন্ধ করাসহ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বৈধ অভিবাসন কমিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার আদলে পয়েন্টের ভিত্তিতে অভিবাসনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রিপাবলিকান দলীয় আরকানসাসের সিনেটর টম কটন ও জর্জিয়ার সিনেটর ডেভিড পারডু সিনেটে বিলটি তুলেছেন। ‘রিফর্মিং আমেরিকান ইমিগ্রেশন ফর স্ট্রং ইকোনমি (রেইজ) অ্যাক্ট’ নামের এই বিল আইনে পরিণত হলে পারিবারিক কোটায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা গ্রিনকার্ডধারীরা কেবল তাঁদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারবেন। ভাই-বোন, ভাগ্নে-ভাগ্নি, দুলাভাই, দাদা-দাদি, নানা-নানিকে আনার বর্তমান সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

বিলটিতে আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীর সংখ্যা অর্ধেকে নামানোর কথা বলা হয়েছে। ভিসা

দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলটিতে এমন সব মানদণ্ডের কথা বলা আছে, যা অর্জন করা প্রার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এসব মানদণ্ডে যাঁরা সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাবেন, তাঁদের ভেতর থেকে বছরে এক লাখ ৪০ হাজার প্রার্থীকে মার্কিন ভিসা দেওয়া হবে। এসব মানদণ্ডের মধ্যে প্রার্থীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজিতে দক্ষতা থেকে শুরু করে আছে নোবেল পুরস্কারও। অর্থাৎ বিলটি আইনে পরিণত হলে স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজিতে দক্ষতা, উচ্চ বেতনে চাকরির অভিজ্ঞতা, তুলনামূলকভাবে কম বয়স ও পেশাগতভাবে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্নরা অগ্রাধিকার পাবেন।

সেই সঙ্গে বছরে ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

প্রার্থীর বয়স : একজন প্রার্থীর সবচেয়ে কর্মক্ষম বয়সকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এই বিলে। কোনো প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ২১ বছর হলে তিনি ছয় পয়েন্ট পাবেন। আট পয়েন্ট পাবেন ২২ থেকে ২৫ বছরের প্রার্থীরা। সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১০ পয়েন্ট দেওয়া হবে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের। আবার বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে পয়েন্ট কমতে থাকবে। সে ক্ষেত্রে ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা পাবেন আট পয়েন্ট। ছয় পয়েন্ট জুটবে ৩৬ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের। এরপর ৪১ থেকে ৪৫ এবং ৪৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রার্থীরা পাবেন যথাক্রমে চার ও দুই পয়েন্ট। ১৮ বছরের কম কিংবা ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারলেও এই ক্যাটাগরিতে তাঁরা কোনো পয়েন্ট পাবেন না।

শিক্ষাগত যোগ্যতা : এ ক্ষেত্রে পয়েন্ট দেওয়া হবে শিক্ষাগত ডিগ্রির ওপর ভিত্তি করে। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিদেশি সমমানের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনকারী প্রার্থী পাবেন এক পয়েন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে পাওয়া যাবে পাঁচ পয়েন্ট। ছয় পয়েন্ট মিলবে এই ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের হলে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রির ক্ষেত্রেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে (৭ পয়েন্ট) যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় বেশি পয়েন্ট (৮) পাবে। বিদেশি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থী পাবেন ১০ পয়েন্ট। আর এই ডিগ্রি যুক্তরাষ্ট্রে পেলে মিলবে বাড়তি তিন পয়েন্ট।

ইংরেজিতে দক্ষতা : একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডে এখানে প্রার্থীর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা দেখা হবে। তাতে দক্ষতা ৬০ শতাংশের কম হলে কোনো পয়েন্ট মিলবে না। ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ হলে মিলবে ছয় পয়েন্ট। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ হলে এই পয়েন্ট হবে ১০। আর ৯০-এর ওপরে হলে ১১ পয়েন্ট। ১২ পয়েন্ট পাওয়া যাবে দক্ষতা শতভাগ হলে।

চাকরির প্রস্তাব : একজন প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে কী ধরনের চাকরির প্রস্তাব পেয়েছে, তার ওপর পয়েন্ট দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে যে অঙ্গরাজ্যে প্রার্থী চাকরি করবেন, মোট বেতন ওই অঙ্গরাজ্যের মধ্যম আয়ের দেড় গুণ হলে মিলবে পাঁচ পয়েন্ট। আট পয়েন্ট ও ১২ পয়েন্ট পাওয়া যাবে যথাক্রমে দ্বিগুণ ও তিন গুণ হলে।

নোবেল পুরস্কার : বড় কোনো সম্মাননা থাকলে প্রার্থী বোনাস পয়েন্ট পাবেন। সে ক্ষেত্রে নোবেল কিংবা এ রকমের কোনো বড় পুরস্কার থাকলে প্রার্থী ২৫ পয়েন্ট পাবেন। অলিম্পিক কিংবা সমমানের কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী প্রার্থীকেও দেওয়া হবে ১৫ পয়েন্ট।

বিনিয়োগ : যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ১৩ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলে একজন প্রার্থী ছয় পয়েন্ট পাবেন। আর এই পয়েন্ট ১২ হয়ে যাবে যদি বিনিয়োগের পরিমাণ ১৮ লাখ ডলার হয়।

স্বামী বা স্ত্রী সঙ্গে নিলে : বিলে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি তাঁর দাম্পত্য সঙ্গীকে সঙ্গে নিতে চান, সে ক্ষেত্রে উল্লিখিত মানদণ্ডে ওই সঙ্গীর পয়েন্টও হিসাব করে দেখা হবে।

ট্রাম্প ও তাঁর নীতিনির্ধাকরা বলছেন, এই বিল আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্রে খেটে খাওয়া মানুষের বেকারত্বের হার কমবে এবং একই সঙ্গে মজুরিও বাড়বে। পাশাপাশি মেধাবী ও দক্ষ বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।

বিলটির অন্যতম প্রস্তাবক সিনেটর ডেভিড পারডু বলেন, ‘প্রচলিত অভিবাসন নীতির মাধ্যমে আমরা নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছি। নিম্ন আয় আর নির্ভরশীল অভিবাসীরা এ দেশের বোঝা ছাড়া আর কিছুই না। যুক্তরাষ্ট্রের দরজা এখন থেকে তাদের জন্যই খোলা থাকবে যারা বৈধ উপায়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে, নিয়মিত কর দেবে। ’

প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে প্রবাসীরা। পারিবারিক কোটায় অভিবাসন হ্রাসের প্রস্তাবে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অনেকের মতে, বিলটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

Comments

comments

X