সোমবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:১২
শিরোনাম
Wednesday, May 3, 2017 2:17 am
A- A A+ Print

সুমিতমো করপোরেশনের সঙ্গে বেজার সমঝোতা স্মারক সই ; জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল করবে নারায়ণগঞ্জে

বাংলাদেশে জাপানের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে জাপান সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান সুমিতমো করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

জাপানের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আলোচনা শুরু হয় ২০১৩ সালে। পরের বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ইশতেহারে বিষয়টি ছিল। তবে ২০১৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গত বছর গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা পিছিয়ে যায়। অবশেষে চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে অনিশ্চয়তা কাটল।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছিল। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বেশি উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জকে। সেখানে মোট ১ হাজার ১০ একর জমিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। প্রথম ধাপ হবে প্রায় ৫০০ একরের ওপর। বেজা জানিয়েছে, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৪৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমঝোতা চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বেজার পক্ষে সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও সুমিতমোর পক্ষে আকিতো শিরায়িশি চুক্তিতে সই করেন।

জানতে চাইলে পবন চৌধুরী বলেন, অধিগ্রহণের পর আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বেজা সেখানে জমি উন্নয়ন শুরু করবে। অন্যদিকে আগামী বছর সুমিতমো করপোরেশন সেখানে উন্নয়নকাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা করা যায়। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা খুব ক্ষতি করেছে। জাপানিরা এ ধরনের অস্থিরতা পছন্দ করে না। তাই এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছে।

বেজা জানিয়েছে, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাস হয়েছে। তবে ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইন স্থাপন এবং ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জাইকার কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনার জন্য যে কোম্পানি হবে, তার ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে বেজার।

বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। এর মধ্যে ৭৬টির স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল পেয়েছে তিনটি দেশ। এর মধ্যে চীন একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৭৪ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। ভারত মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০৫৪ একর জমি চেয়েছে। সৌদি আরবও সেখানে বিনিয়োগের জন্য দুই হাজার একর জমি চেয়েছে।

বেজার চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জাপানি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবে। আমরা আশা করতে পারি, সেখানে বিনিয়োগের জন্য বড় বড় জাপানি প্রতিষ্ঠান আসবে।’ জাপানি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিরসরাইয়ে বিনিয়োগের জন্য বেজার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানান পবন চৌধুরী।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

সুমিতমো করপোরেশনের সঙ্গে বেজার সমঝোতা স্মারক সই ; জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল করবে নারায়ণগঞ্জে

Wednesday, May 3, 2017 2:17 am

বাংলাদেশে জাপানের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে জাপান সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান সুমিতমো করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

জাপানের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আলোচনা শুরু হয় ২০১৩ সালে। পরের বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ইশতেহারে বিষয়টি ছিল। তবে ২০১৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গত বছর গুলশানের সন্ত্রাসী হামলায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা পিছিয়ে যায়। অবশেষে চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে অনিশ্চয়তা কাটল।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছিল। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বেশি উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জকে। সেখানে মোট ১ হাজার ১০ একর জমিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। প্রথম ধাপ হবে প্রায় ৫০০ একরের ওপর। বেজা জানিয়েছে, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৪৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমঝোতা চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বেজার পক্ষে সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও সুমিতমোর পক্ষে আকিতো শিরায়িশি চুক্তিতে সই করেন।

জানতে চাইলে পবন চৌধুরী বলেন, অধিগ্রহণের পর আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বেজা সেখানে জমি উন্নয়ন শুরু করবে। অন্যদিকে আগামী বছর সুমিতমো করপোরেশন সেখানে উন্নয়নকাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা করা যায়। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা খুব ক্ষতি করেছে। জাপানিরা এ ধরনের অস্থিরতা পছন্দ করে না। তাই এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছে।

বেজা জানিয়েছে, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাস হয়েছে। তবে ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইন স্থাপন এবং ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জাইকার কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার আশা করছে সরকার। জাপান অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনার জন্য যে কোম্পানি হবে, তার ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে বেজার।

বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। এর মধ্যে ৭৬টির স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৩টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল পেয়েছে তিনটি দেশ। এর মধ্যে চীন একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৭৪ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। ভারত মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০৫৪ একর জমি চেয়েছে। সৌদি আরবও সেখানে বিনিয়োগের জন্য দুই হাজার একর জমি চেয়েছে।

বেজার চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জাপানি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবে। আমরা আশা করতে পারি, সেখানে বিনিয়োগের জন্য বড় বড় জাপানি প্রতিষ্ঠান আসবে।’ জাপানি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিরসরাইয়ে বিনিয়োগের জন্য বেজার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানান পবন চৌধুরী।

Comments

comments

X