বুধবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:০৪
শিরোনাম
Tuesday, September 5, 2017 3:49 am
A- A A+ Print

‘সহায়ক সরকার নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের ব্যাখ্যা সঠিক নয়’

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ব্যাখ্যা ‘সঠিক’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দেখার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সহায়ক সরকারের ব্যাখ্যা তিনি (ওবায়দুল কাদের) যেটি দিয়েছেন, সেটা সঠিক নয় বলে আমার কাছে মনে হয়। কারণ সহায়ক সরকার বলতে আমরা যেটা বুঝিয়েছি সেটা হচ্ছে, যে একটা সম্পূর্ণ দল-নিরপেক্ষ সরকার থাকবে নির্বাচনকালীন যে অন্তর্বতীকালীন সময় সেই সময়ে। এটার সঙ্গে তাদের (আওয়ামী লীগ) যে চিন্তা, সেই চিন্তার কোনো মিল নেই।

“একারণে আমরা বলছি যে, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সহায়ক সরকারের ব্যাপারে কথা বলে যাতে সকল দল অংশ গ্রহণ করতে পারে, সেই একটা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে যেতে চাই। আমরা নির্বাচনে অবশ্যই যেতে চাই, সেই নির্বাচনটা যেন সকলের অংশগ্রহণে হয় এবং নিরপেক্ষ হয়, সেইটাই আমরা দাবি করে আসছি।”

রোববার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এএইচসি উচ্চবিদ্যালয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সহায়ক সরকার সংবিধানেই আছে। শেখ হাসিনার সরকারই আগামী নির্বাচনে সহায়ক সরকারের ভূমিক পালন করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “এরকম একটা সরকার তারা চাচ্ছে না। এর মূল কারণটা হচ্ছে যে, তারা একদলীয় একটা শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় একতরফা একটা নির্বাচন করে।“আমরা বলতে চাই, এবার এটা সম্ভব হবে না, এবার দেশের মানুষও গ্রহণ করবে না, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তারা কেউ তাদের এই চিন্তাভাবনাগুলো মেনে নেবে না।”

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে- সরকারের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, “একথা কথা তারা বহুবার বলে এসেছে। সংবিধান অনেকবার এর আগে পরিবর্তনও করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে সংবিধান স্থগিত রেখে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে, ৯৬ সালে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।“সুতরাং মানুষের জন্যই তো সংবিধান, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যে আশা-আকাঙ্ক্ষা তার প্রতিফলন সংবিধান। প্রয়োজনে সেটা পরিবর্তনও করা যেতে পারে।”

সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতলে কেবিনে চিকিৎসাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল।
কাদের সিদ্দিকী রোববার টাঙ্গাইলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহর তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছে।

ফখরুল বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং তার আরোগ্য কামনা করেন।

এ সময়ে অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ছাত্র নেতা ইসমত কাদির গামা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা, অধ্যাপক নাজিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কাদের সিদ্দিকীর পাশে বসে বিএনপি মহাসচিব কথা বলার এক পর্যায়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ কেবিনে প্রবেশ করেন। বঙ্গবীরের একপাশে মির্জা ফখরুল এবং অন্যপাশে কাজী ফিরোজ বসে কথা বলেন কিছুক্ষণ।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

‘সহায়ক সরকার নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের ব্যাখ্যা সঠিক নয়’

Tuesday, September 5, 2017 3:49 am

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ব্যাখ্যা ‘সঠিক’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দেখার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, “সহায়ক সরকারের ব্যাখ্যা তিনি (ওবায়দুল কাদের) যেটি দিয়েছেন, সেটা সঠিক নয় বলে আমার কাছে মনে হয়। কারণ সহায়ক সরকার বলতে আমরা যেটা বুঝিয়েছি সেটা হচ্ছে, যে একটা সম্পূর্ণ দল-নিরপেক্ষ সরকার থাকবে নির্বাচনকালীন যে অন্তর্বতীকালীন সময় সেই সময়ে। এটার সঙ্গে তাদের (আওয়ামী লীগ) যে চিন্তা, সেই চিন্তার কোনো মিল নেই।

“একারণে আমরা বলছি যে, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সহায়ক সরকারের ব্যাপারে কথা বলে যাতে সকল দল অংশ গ্রহণ করতে পারে, সেই একটা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা আগামী নির্বাচনে যেতে চাই। আমরা নির্বাচনে অবশ্যই যেতে চাই, সেই নির্বাচনটা যেন সকলের অংশগ্রহণে হয় এবং নিরপেক্ষ হয়, সেইটাই আমরা দাবি করে আসছি।”

রোববার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এএইচসি উচ্চবিদ্যালয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, “সহায়ক সরকার সংবিধানেই আছে। শেখ হাসিনার সরকারই আগামী নির্বাচনে সহায়ক সরকারের ভূমিক পালন করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “এরকম একটা সরকার তারা চাচ্ছে না। এর মূল কারণটা হচ্ছে যে, তারা একদলীয় একটা শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় একতরফা একটা নির্বাচন করে।“আমরা বলতে চাই, এবার এটা সম্ভব হবে না, এবার দেশের মানুষও গ্রহণ করবে না, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তারা কেউ তাদের এই চিন্তাভাবনাগুলো মেনে নেবে না।”

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে- সরকারের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, “একথা কথা তারা বহুবার বলে এসেছে। সংবিধান অনেকবার এর আগে পরিবর্তনও করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে সংবিধান স্থগিত রেখে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে, ৯৬ সালে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।“সুতরাং মানুষের জন্যই তো সংবিধান, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যে আশা-আকাঙ্ক্ষা তার প্রতিফলন সংবিধান। প্রয়োজনে সেটা পরিবর্তনও করা যেতে পারে।”

সকাল সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতলে কেবিনে চিকিৎসাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল।
কাদের সিদ্দিকী রোববার টাঙ্গাইলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহর তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছে।

ফখরুল বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং তার আরোগ্য কামনা করেন।

এ সময়ে অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ছাত্র নেতা ইসমত কাদির গামা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা, অধ্যাপক নাজিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কাদের সিদ্দিকীর পাশে বসে বিএনপি মহাসচিব কথা বলার এক পর্যায়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ কেবিনে প্রবেশ করেন। বঙ্গবীরের একপাশে মির্জা ফখরুল এবং অন্যপাশে কাজী ফিরোজ বসে কথা বলেন কিছুক্ষণ।

Comments

comments

X