সোমবার, ২১শে মে, ২০১৮ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৩৯
শিরোনাম
Thursday, September 14, 2017 1:02 am
A- A A+ Print

ষোড়শ সংশোধনী: রায় নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সংসদের

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আইনসভায় বিরল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয় বুধবার ৫ ঘণ্টার আলোচনার পর, যাতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে আনা সংবিধান সংশোধন বাতিলের এই রায় দিয়েছে। কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা না হলেও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এই প্রক্রিয়ার কাজ তারা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন।

আইনমন্ত্রী এর আগে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন বলে সংসদেই জানিয়ে বলেছিলেন, তাতে তারা ‘কামিয়াব’ হবে বলে আশাবাদী।

সংসদ সদস্যদের আলোচনায় রায় ও পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সমালোচনাও হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ।বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় গত ১ অগাস্ট বাতিলের পর থেকে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এই রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন।

অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার আমলে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনার এই রায়কে স্বাগত জানায় বিএনপি।রায়ের পর সংসদ বসার পর তা নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণাই ছিল রাজনৈতিক মহলে। জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল সেই আলোচনার প্রস্তাব আনার পর তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাহী বিভাগ প্রথমে বিচারাঙ্গনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর এখন রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ আইনসভাকেও বিচার বিভাগের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

বাদলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “সংসদের অভিমত এই যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেওয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

বাদল তার নোটিসে বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি ‘অপ্রয়োজনীয়, অবাঞ্ছিত বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অপরিপক্ক আখ্যায়িত করেছেন’। এ বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা, গুঞ্জন চলছে; যা সমগ্র জাতির জন্য বাঞ্ছনীয় নয়।

কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান সংশোধনের কোনো এখতিয়ার আদালতের নাই। আইনের ব্যত্যয় হলে তারা শুধু আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারেন।”এই রায়ে ‘অনেক কন্ট্রাডিকশন’ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কোথা থেকে, কীভাবে, কারা (এই রায়) তৈরি করে দিয়েছে; এটা একটা প্রশ্ন।”

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি আই-নেস ও উই-নেসের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আই-নেস এসে যায়।”

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের আওতায় প্রধান বিচারপতি ও তার অধীনস্ত দুজন বিচারপতিকে নিয়ে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের সুযোগ থাকার বিষয়টি বলেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, “তিনি (প্রধান বিচারপতি) বিভিন্ন কথা বলতে গিয়ে নিজেকে এবং সংসদ ও গণতন্ত্রকে শ্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার উদ্দেশ্যটা কী; আমার প্রশ্ন।”

এই রায়ের প্রসঙ্গ ধরে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবিধানের এই সংশোধনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিচারপতিদের সম্মান, স্বাধীনতা ও বিচারপতি অপসারণ সুদৃঢ় করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় তা অনুমোদনের আগে আইনের খসড়াটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি। “আইনের ড্রাফট পাঠাই ২০১৫ সালের প্রধান বিচারপতির কাছে। আমি কোনো উত্তর পাইনি। পরে, আমাকে একটা টিঠি পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল- ‘ম্যাটার সাবজুডিশ; নো কমেন্টস’। তখনই বোঝা গিয়েছিল, তাদের একটা উদ্দেশ্য ছিল।” রায়ে যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তাকে ‘তাইরে-নাইরে খেলা’ বলে মন্তব্য করেন আনিসুল হক। “যে যুক্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছে; তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি খুবই দৃঢ়তার সাথে বলছি, দিস জাজমেন্ট উইল নট গো উইদাউট লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ। “এই রায় আবেগতাড়িত ও বিদ্বেষপ্রসূত। সুতরাং আমরা আইনি প্রক্রিয়া চাই। আমরা এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।”

প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই পদে যিনি বসবেন, তাকে আইনি ভাষায় কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা ঠিক নয়। প্রধান বিচারপতির দুটোরই অভাব দেখা গেছে।”

প্রস্তাব উত্থাপনকারী বাদল প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনার কাছে মনে হচ্ছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্রধারী উত্তর পাড়াই উত্তম?

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

ষোড়শ সংশোধনী: রায় নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সংসদের

Thursday, September 14, 2017 1:02 am

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আইনসভায় বিরল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয় বুধবার ৫ ঘণ্টার আলোচনার পর, যাতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে আনা সংবিধান সংশোধন বাতিলের এই রায় দিয়েছে। কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা না হলেও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এই প্রক্রিয়ার কাজ তারা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন।

আইনমন্ত্রী এর আগে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করবেন বলে সংসদেই জানিয়ে বলেছিলেন, তাতে তারা ‘কামিয়াব’ হবে বলে আশাবাদী।

সংসদ সদস্যদের আলোচনায় রায় ও পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সমালোচনাও হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ।বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় গত ১ অগাস্ট বাতিলের পর থেকে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এই রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন।

অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার আমলে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনার এই রায়কে স্বাগত জানায় বিএনপি।রায়ের পর সংসদ বসার পর তা নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণাই ছিল রাজনৈতিক মহলে। জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল সেই আলোচনার প্রস্তাব আনার পর তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাহী বিভাগ প্রথমে বিচারাঙ্গনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর এখন রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গ আইনসভাকেও বিচার বিভাগের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

বাদলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “সংসদের অভিমত এই যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেওয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

বাদল তার নোটিসে বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি ‘অপ্রয়োজনীয়, অবাঞ্ছিত বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অপরিপক্ক আখ্যায়িত করেছেন’। এ বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা, গুঞ্জন চলছে; যা সমগ্র জাতির জন্য বাঞ্ছনীয় নয়।

কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান সংশোধনের কোনো এখতিয়ার আদালতের নাই। আইনের ব্যত্যয় হলে তারা শুধু আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারেন।”এই রায়ে ‘অনেক কন্ট্রাডিকশন’ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কোথা থেকে, কীভাবে, কারা (এই রায়) তৈরি করে দিয়েছে; এটা একটা প্রশ্ন।”

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি আই-নেস ও উই-নেসের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আই-নেস এসে যায়।”

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের আওতায় প্রধান বিচারপতি ও তার অধীনস্ত দুজন বিচারপতিকে নিয়ে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের সুযোগ থাকার বিষয়টি বলেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, “তিনি (প্রধান বিচারপতি) বিভিন্ন কথা বলতে গিয়ে নিজেকে এবং সংসদ ও গণতন্ত্রকে শ্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার উদ্দেশ্যটা কী; আমার প্রশ্ন।”

এই রায়ের প্রসঙ্গ ধরে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবিধানের এই সংশোধনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিচারপতিদের সম্মান, স্বাধীনতা ও বিচারপতি অপসারণ সুদৃঢ় করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় তা অনুমোদনের আগে আইনের খসড়াটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি। “আইনের ড্রাফট পাঠাই ২০১৫ সালের প্রধান বিচারপতির কাছে। আমি কোনো উত্তর পাইনি। পরে, আমাকে একটা টিঠি পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল- ‘ম্যাটার সাবজুডিশ; নো কমেন্টস’। তখনই বোঝা গিয়েছিল, তাদের একটা উদ্দেশ্য ছিল।” রায়ে যে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তাকে ‘তাইরে-নাইরে খেলা’ বলে মন্তব্য করেন আনিসুল হক। “যে যুক্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করেছে; তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি খুবই দৃঢ়তার সাথে বলছি, দিস জাজমেন্ট উইল নট গো উইদাউট লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ। “এই রায় আবেগতাড়িত ও বিদ্বেষপ্রসূত। সুতরাং আমরা আইনি প্রক্রিয়া চাই। আমরা এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।”

প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই পদে যিনি বসবেন, তাকে আইনি ভাষায় কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা ঠিক নয়। প্রধান বিচারপতির দুটোরই অভাব দেখা গেছে।”

প্রস্তাব উত্থাপনকারী বাদল প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনার কাছে মনে হচ্ছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্রধারী উত্তর পাড়াই উত্তম?

Comments

comments

X