বৃহস্পতিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রাত ২:৩১
শিরোনাম
Wednesday, May 24, 2017 8:07 am
A- A A+ Print

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি: রোহিঙ্গা হত্যা ধর্ষণের সব অভিযোগ মিথ্যা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনী হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা ‘হয় মিথ্যা, না হয় ভ্রান্ত’—এ কথা বলেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই অভিযোগের বিষয়ে তারা নিজেরা তদন্ত পরিচালনা করেছে এবং তাতে দেখা গেছে, এক সেনা একজনের একটি মোটরবাইক নিয়ে গিয়েছিল এবং তার জন্য তাঁর জেলও হয়েছে।

গত বছর রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের অনেকেই মিয়ানমারের সেনাদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে। জাতিসংঘ বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শত শত রোহিঙ্গা নাগরিকের বক্তব্য শোনার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। সেনাপ্রধান আয়ি উইনের নেতৃত্বে এ তদন্ত করা হয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। যদিও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তদন্তকারী দল বাংলাদেশে আসেনি, কিন্তু তারা বলছে, প্রায় তিন হাজার গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেছে তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের করা ধর্ষণ এবং হত্যার সব ধরনের অভিযোগ ছিল অসত্য। সেই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, কেবল দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে সেনারা অসদাচরণ করেছে। সরকারি সংবাদমাধ্যমে সেনাবাহিনীর ‘ট্রু নিউজের’ বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘১৮টি অভিযোগের (জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের অভিযোগসহ) মধ্যে ১২টিই অযথার্থ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বাকি ছয়টি অভিযোগ হয় মিথ্যা, নয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি। ’

তবে সে সময় রাখাইন রাজ্যের আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্রাম ও মানুষের মৃতদেহের যে ভয়াবহ ছবি এবং নারীদের বয়ানে যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত দলের পর্যবেক্ষণ মেলানো বেশ কঠিন।

ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তদল পাঠানোর প্রচেষ্টাও মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বাধার কারণে আটকে গেছে বলে মনে করা হয়। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি: রোহিঙ্গা হত্যা ধর্ষণের সব অভিযোগ মিথ্যা

Wednesday, May 24, 2017 8:07 am

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনী হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা ‘হয় মিথ্যা, না হয় ভ্রান্ত’—এ কথা বলেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই অভিযোগের বিষয়ে তারা নিজেরা তদন্ত পরিচালনা করেছে এবং তাতে দেখা গেছে, এক সেনা একজনের একটি মোটরবাইক নিয়ে গিয়েছিল এবং তার জন্য তাঁর জেলও হয়েছে।

গত বছর রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের অনেকেই মিয়ানমারের সেনাদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে। জাতিসংঘ বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শত শত রোহিঙ্গা নাগরিকের বক্তব্য শোনার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। সেনাপ্রধান আয়ি উইনের নেতৃত্বে এ তদন্ত করা হয়।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন। যদিও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তদন্তকারী দল বাংলাদেশে আসেনি, কিন্তু তারা বলছে, প্রায় তিন হাজার গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেছে তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের করা ধর্ষণ এবং হত্যার সব ধরনের অভিযোগ ছিল অসত্য। সেই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, কেবল দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে সেনারা অসদাচরণ করেছে। সরকারি সংবাদমাধ্যমে সেনাবাহিনীর ‘ট্রু নিউজের’ বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘১৮টি অভিযোগের (জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনের অভিযোগসহ) মধ্যে ১২টিই অযথার্থ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বাকি ছয়টি অভিযোগ হয় মিথ্যা, নয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি। ’

তবে সে সময় রাখাইন রাজ্যের আগুনে পুড়ে যাওয়া গ্রাম ও মানুষের মৃতদেহের যে ভয়াবহ ছবি এবং নারীদের বয়ানে যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত দলের পর্যবেক্ষণ মেলানো বেশ কঠিন।

ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্তদল পাঠানোর প্রচেষ্টাও মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বাধার কারণে আটকে গেছে বলে মনে করা হয়। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

Comments

comments

X