সোমবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রাত ১১:০৭
শিরোনাম
Thursday, March 16, 2017 12:05 pm
A- A A+ Print

বাংলাদেশের প্রতিবেদন যাচ্ছে জাতিসংঘে ;২১ মার্চ অগ্রগতি তুলে ধরবে সরকার: এলডিসি থেকে বের হতে দুই শর্ত পূরণ

উন্নয়নশীল দেশ বা ডেভেলপিং কান্ট্রি হতে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারি হিসাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার শর্ত পূরণ করে ফেলেছে। জাতিসংঘের দেওয়া তিন শর্তের মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই দুটি শর্ত পূরণ হয়ে গেছে। আর জাতীয় মাথাপিছু আয় সূচকেও লক্ষ্য পূরণের পথে আছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। তিনটির মধ্যে দুটি শর্ত পূরণ করলেই উন্নয়নশীল হওয়ার প্রাথমিক বাছাই হয়।

এলডিসি থেকে বের হতে সরকারিভাবেই উদ্যোগ হিসেবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসোক)ð কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে সরকার। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে জাতিসংঘের সিডিপি। এই কমিটির ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে গত মাসে পরিকল্পনা কমিশনের জিইডির এক প্রতিনিধিদল আলোচনা করে এসেছে। সেই আলোচনার সূত্র ধরে জিইডির সদস্য শামসুল আলম ২১ মার্চ নিউইয়র্কে সিডিপির সামনে সূচকগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরবেন।

এখন বাংলাদেশসহ এলডিসি ৪৮টি। প্রতি তিন বছর পর সিডিপি কোন কোন দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে প্রস্তুত—সেই বাছাই তালিকা করে থাকে। সর্বশেষ তালিকাটি ২০১৫ সালে হয়েছিল। আগামী তালিকা হবে ২০১৮ সালে। ২০১৮ সালের মূল্যায়নে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ওই তিনটি সূচকে কী ধরনের পরিস্থিতি ছিল, তা বিবেচনা করা হবে।

জিইডির সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি হিসাব ও জাতিসংঘের হিসাবের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তাই ২০১৮ সালেই বাংলাদেশ বাছাইয়ে থাকতে চায়। জাতীয় মাথাপিছু আয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকার কারণ, আমরা মাথাপিছু আয় হিসাব করি অর্থবছরের ভিত্তিতে। আর জাতিসংঘ করে থাকে পঞ্জিকাবর্ষ ধরে। সেটিও এখন সমন্বয় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মূল্যায়ন

জিইডির তৈরি করা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অপুষ্টি, শিশুমৃত্যু, মাধ্যমিক শিক্ষায় নিবন্ধন, বয়স্ক শিক্ষা, মাতৃমৃত্যুসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে মানবসম্পদ উন্নয়ন নির্ধারণ করা হয়। ২০১৫ সালের হিসাবে, এই সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ৬৯ দশমিক ৫ পয়েন্ট। জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮ দশমিক ৭ পয়েন্ট। এলডিসি থেকে বের হতে এই সূচকে ৬৬ পয়েন্টের বেশি পেতে হয়।

অন্যদিকে মোট জনসংখ্যা, প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত জনসংখ্যা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের ঝুঁকি, রপ্তানিনির্ভরতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক নির্ধারণ করা হয়। জাতিসংঘের হিসাবে এই সূচকে ৩২ পয়েন্টের কম থাকতে হবে। সরকারি হিসাবে, এই সূচকে বাংলাদেশের অর্জন ২৫ দশমিক ০৩ পয়েন্ট। এর মানে, এই সূচকেও বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবেও বাংলাদেশের অর্জন ২৫ দশমিক ১১ পয়েন্ট।

তবে জাতীয় মাথাপিছু আয় সূচকে ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার থাকতে হবে। মাথাপিছু আয় হিসাবটি জাতিসংঘ করেছে এটলাস পদ্ধতিতে। এতে একটি দেশের স্থানীয় মুদ্রায় গণনা করা জাতীয় আয়কে মার্কিন ডলারে রূপান্তর করা হয়। এ ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারে ওঠানামা সমন্বয় করতে আগের তিন বছরের গড় বিনিময় হারকে ধরা হয়। এটলাস পদ্ধতি হিসাব করে জিইডি বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের গড় জাতীয় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৩ ডলার। এর মধ্যে ২০১৬ সালের প্রাক্কলন ১ হাজার ৪০৩ ডলার। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এর পরিমাণ যথাক্রমে ১১৪২ ও ১২৭৫ ডলার।

জাতিসংঘের সিপিডি যদি ২০১৮ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল হওয়ার জন্য বাছাইয়ে মনোনীত করে; ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই তিনটি সূচকে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে হবে। এরপর উন্নয়নশীল দেশের জন্য বাংলাদেশ যোগ্যতা অর্জন করবে। তখন উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করবে ইকোসোক। সেই সুপারিশ জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অনুমোদন হলে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা কার্যকর হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

বাংলাদেশের প্রতিবেদন যাচ্ছে জাতিসংঘে ;২১ মার্চ অগ্রগতি তুলে ধরবে সরকার: এলডিসি থেকে বের হতে দুই শর্ত পূরণ

Thursday, March 16, 2017 12:05 pm

উন্নয়নশীল দেশ বা ডেভেলপিং কান্ট্রি হতে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারি হিসাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার শর্ত পূরণ করে ফেলেছে। জাতিসংঘের দেওয়া তিন শর্তের মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই দুটি শর্ত পূরণ হয়ে গেছে। আর জাতীয় মাথাপিছু আয় সূচকেও লক্ষ্য পূরণের পথে আছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। তিনটির মধ্যে দুটি শর্ত পূরণ করলেই উন্নয়নশীল হওয়ার প্রাথমিক বাছাই হয়।

এলডিসি থেকে বের হতে সরকারিভাবেই উদ্যোগ হিসেবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসোক)ð কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে সরকার। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে জাতিসংঘের সিডিপি। এই কমিটির ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে গত মাসে পরিকল্পনা কমিশনের জিইডির এক প্রতিনিধিদল আলোচনা করে এসেছে। সেই আলোচনার সূত্র ধরে জিইডির সদস্য শামসুল আলম ২১ মার্চ নিউইয়র্কে সিডিপির সামনে সূচকগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরবেন।

এখন বাংলাদেশসহ এলডিসি ৪৮টি। প্রতি তিন বছর পর সিডিপি কোন কোন দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে প্রস্তুত—সেই বাছাই তালিকা করে থাকে। সর্বশেষ তালিকাটি ২০১৫ সালে হয়েছিল। আগামী তালিকা হবে ২০১৮ সালে। ২০১৮ সালের মূল্যায়নে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ওই তিনটি সূচকে কী ধরনের পরিস্থিতি ছিল, তা বিবেচনা করা হবে।

জিইডির সদস্য শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি হিসাব ও জাতিসংঘের হিসাবের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তাই ২০১৮ সালেই বাংলাদেশ বাছাইয়ে থাকতে চায়। জাতীয় মাথাপিছু আয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকার কারণ, আমরা মাথাপিছু আয় হিসাব করি অর্থবছরের ভিত্তিতে। আর জাতিসংঘ করে থাকে পঞ্জিকাবর্ষ ধরে। সেটিও এখন সমন্বয় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের মূল্যায়ন

জিইডির তৈরি করা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অপুষ্টি, শিশুমৃত্যু, মাধ্যমিক শিক্ষায় নিবন্ধন, বয়স্ক শিক্ষা, মাতৃমৃত্যুসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে মানবসম্পদ উন্নয়ন নির্ধারণ করা হয়। ২০১৫ সালের হিসাবে, এই সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ৬৯ দশমিক ৫ পয়েন্ট। জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮ দশমিক ৭ পয়েন্ট। এলডিসি থেকে বের হতে এই সূচকে ৬৬ পয়েন্টের বেশি পেতে হয়।

অন্যদিকে মোট জনসংখ্যা, প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত জনসংখ্যা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের ঝুঁকি, রপ্তানিনির্ভরতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক নির্ধারণ করা হয়। জাতিসংঘের হিসাবে এই সূচকে ৩২ পয়েন্টের কম থাকতে হবে। সরকারি হিসাবে, এই সূচকে বাংলাদেশের অর্জন ২৫ দশমিক ০৩ পয়েন্ট। এর মানে, এই সূচকেও বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবেও বাংলাদেশের অর্জন ২৫ দশমিক ১১ পয়েন্ট।

তবে জাতীয় মাথাপিছু আয় সূচকে ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার থাকতে হবে। মাথাপিছু আয় হিসাবটি জাতিসংঘ করেছে এটলাস পদ্ধতিতে। এতে একটি দেশের স্থানীয় মুদ্রায় গণনা করা জাতীয় আয়কে মার্কিন ডলারে রূপান্তর করা হয়। এ ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারে ওঠানামা সমন্বয় করতে আগের তিন বছরের গড় বিনিময় হারকে ধরা হয়। এটলাস পদ্ধতি হিসাব করে জিইডি বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের গড় জাতীয় মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৩ ডলার। এর মধ্যে ২০১৬ সালের প্রাক্কলন ১ হাজার ৪০৩ ডলার। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এর পরিমাণ যথাক্রমে ১১৪২ ও ১২৭৫ ডলার।

জাতিসংঘের সিপিডি যদি ২০১৮ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল হওয়ার জন্য বাছাইয়ে মনোনীত করে; ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই তিনটি সূচকে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে হবে। এরপর উন্নয়নশীল দেশের জন্য বাংলাদেশ যোগ্যতা অর্জন করবে। তখন উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করবে ইকোসোক। সেই সুপারিশ জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অনুমোদন হলে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা কার্যকর হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Comments

comments

X