সোমবার, ২১শে মে, ২০১৮ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৪০
শিরোনাম
Saturday, December 9, 2017 6:01 am | আপডেটঃ December 10, 2017 2:07 AM
A- A A+ Print

ফারজানা হক – একজন প্রত্যয়ী নারীর প্রতিচ্ছবি

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে বিভিন্ন ঘটনা - দুর্ঘটনা। এসবের কোন কোনটি আমাদেরকে আতœহারা করে তোলে আবার কোন কোনটি আমাদের ভাবিয়ে তোলে, কুন্ঠিত , সংকুচিত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। আমাদের ভাবনার পটে দোল খায় কি হচ্ছে এসব কিংবা কোন সমাজে বাস করছি আমরা - এ ধরণের কিছু প্রশ্ন। মানবিকতা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, বিবেক সবকিছুই দাঁড়ায় প্রশ্নের মুখোমুখি।

চারপাশে ঘটে চলা খুন, ধর্ষন, হানাহানিসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় কখনো আমরা হই কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কখনো বা ভীত-তটস্থ আবার কখনোও বা তীব্র প্রতিবাদী। সবাই প্রতিবাদী হয় না এবং হতে পারে ও না। বিশেষ করে প্রতিবাদী ব্যক্তি যদি হন একজন নারী তাহলে বহু প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। পুরুষতান্ত্রিকতার ঘেরাজালে আবদ্ধ সমাজে নিজের অধিকার ও মত প্রতিষ্ঠিত করতে একজন নারীকে ডিঙোতে হয় পাহাড়সম বাধা। আজকে আমরা আমাদের পাঠকদের সামনে তেমনি একজন নারীকে হাজির করছি যিনি অনেক প্রতিকূলতার মাঝে ও তরী বেয়ে গেছেন আপন লক্ষ্যে পৌঁছুবার জন্যে। তিনি ফারজানা হক। প্রিয় পাঠক, ফারজানা হকের কর্মময় জীবনের উপর একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

ফারজানা হক একজন নারী হিসেবে নারী শিক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা, নারীর মর্যাদা ও নারীর ক্ষমতায়নে মনে প্রাণে বিশ্বাসী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নারীদের নিয়ে কাজ করে আসছেন। নেপলিয়ন বোনাপার্টের অমর উক্তি ” একজন ভাল মা ই পারে কেবল একটি ভাল জাতি” ফারজানা হক মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন কারণ সুস্থ ও সুন্দর পরিবার তথা সমাজের জন্যে সুসন্তান প্রয়োজন এবং এজন্যে সু-মাতার প্রয়োজন অবশ্যম্ভাবী। আর একজন সু-মাতার জন্যে প্রয়োজন শিক্ষার। একজন শিক্ষিত নারী নিশ্চিত করতে পারেন সুস্থ জীবনমান ও আত্মমর্যাদা। মাত্র ষোলো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া ফারজনা তাই আত্মপোলব্ধির এ জায়গাটি থেকেই নিজের শিক্ষাজীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি সমাজকল্যাণে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন এবং নিজের ধ্যান ধারণার জায়গা থেকে অন্য নারীদের জীবন মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। তিনি এ্যাপেক্স ও অগ্রগামী নামক দুটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কার্যকরী সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এছাড়াও বাংলা ক্রাফট ও উইমেন ওয়াচ বাংলাদেশ নামক দটি সংষ্থার সাথে এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে কাজ করেন। বন্যা ও দুর্যোগপীড়িত মানুষদের জন্যে খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমেও তিনি অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন সময়ে। তিনি বিভিন্ন টক শো তে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। ৯০০ এরও অধিক নারীকে সেলাই, কম্পিউটার পরিচালনা, ব্লক ও বাটিক কোর্স সহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছেন।

ফারজানা হক বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নিপীড়িত ও দুঃস্থ নারীদেরকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছেন ও তাদেরকে লিগ্যাল এইড এর ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন। নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে তাদেরকে সচেতন করে তুলেছেন। নারীদেরকে গৃহ নির্যাতন ও সব ধরণের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সম্যক জ্ঞান প্রদান করে একটি ছাতার নিচে তাদেরকে সমবেত করেছেন যেন যেকোন অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াতে পারে।

নিজ্বস্ব বুটিক হাউজ তৈরীর পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ চেক, প্রবর্তনা, নিপুণ, আড়ং ও গামীণ মেলার ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তার কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি International Jute Study Group (IJSG) and Jute Diversification Product Center (JDPC) এর এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে অনÍর্ভূক্ত হন। এ দুটি সংস্থার হয়ে তিনি থাইল্যান্ড, বেইজিং, চায়না ও তুর্কি বাণিজ্যমেলায় প্রতিনিধিত্ব করেন ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। তিনি লাস ভেগাস ম্যাজিক শো নামক আন্তর্জাতিক বস্ত্রমেলায় নিজস্ব বুথ সহ অংশগ্রহন করে আসছেন বহু বছর ধরে।

ফারজানা হক শুধু দেশেই নয় বরং এই প্রবাসেও তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোদমে। তিনি গ্রীন টাচ ম্যাটারনাল এ্যান্ড চাইল্ড নামক সংস্থায় রিসার্চ, প্ল্যানিং ও ডেভেলাপমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট এ অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ও ড্রাম এ সাধারণ সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ফারজানা স্বপ্ন দেখেন সুন্দর একটি সমাজব্যাবস্থার যেখানে প্রতিটি নারীই স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন ও প্রতিটি নারীর মর্যাদা সুনিশ্চিত হবে। আর এ লক্ষ্যে তিনি অব্যাহত কাজ করে যেতে চান শেষ পর্যন্ত।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

ফারজানা হক – একজন প্রত্যয়ী নারীর প্রতিচ্ছবি

Saturday, December 9, 2017 6:01 am | আপডেটঃ December 10, 2017 2:07 AM

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে বিভিন্ন ঘটনা – দুর্ঘটনা। এসবের কোন কোনটি আমাদেরকে আতœহারা করে তোলে আবার কোন কোনটি আমাদের ভাবিয়ে তোলে, কুন্ঠিত , সংকুচিত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। আমাদের ভাবনার পটে দোল খায় কি হচ্ছে এসব কিংবা কোন সমাজে বাস করছি আমরা – এ ধরণের কিছু প্রশ্ন। মানবিকতা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, বিবেক সবকিছুই দাঁড়ায় প্রশ্নের মুখোমুখি।

চারপাশে ঘটে চলা খুন, ধর্ষন, হানাহানিসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় কখনো আমরা হই কিংকর্তব্যবিমূঢ়, কখনো বা ভীত-তটস্থ আবার কখনোও বা তীব্র প্রতিবাদী। সবাই প্রতিবাদী হয় না এবং হতে পারে ও না। বিশেষ করে প্রতিবাদী ব্যক্তি যদি হন একজন নারী তাহলে বহু প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। পুরুষতান্ত্রিকতার ঘেরাজালে আবদ্ধ সমাজে নিজের অধিকার ও মত প্রতিষ্ঠিত করতে একজন নারীকে ডিঙোতে হয় পাহাড়সম বাধা। আজকে আমরা আমাদের পাঠকদের সামনে তেমনি একজন নারীকে হাজির করছি যিনি অনেক প্রতিকূলতার মাঝে ও তরী বেয়ে গেছেন আপন লক্ষ্যে পৌঁছুবার জন্যে। তিনি ফারজানা হক। প্রিয় পাঠক, ফারজানা হকের কর্মময় জীবনের উপর একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

ফারজানা হক একজন নারী হিসেবে নারী শিক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা, নারীর মর্যাদা ও নারীর ক্ষমতায়নে মনে প্রাণে বিশ্বাসী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নারীদের নিয়ে কাজ করে আসছেন। নেপলিয়ন বোনাপার্টের অমর উক্তি ” একজন ভাল মা ই পারে কেবল একটি ভাল জাতি” ফারজানা হক মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন কারণ সুস্থ ও সুন্দর পরিবার তথা সমাজের জন্যে সুসন্তান প্রয়োজন এবং এজন্যে সু-মাতার প্রয়োজন অবশ্যম্ভাবী। আর একজন সু-মাতার জন্যে প্রয়োজন শিক্ষার। একজন শিক্ষিত নারী নিশ্চিত করতে পারেন সুস্থ জীবনমান ও আত্মমর্যাদা। মাত্র ষোলো বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া ফারজনা তাই আত্মপোলব্ধির এ জায়গাটি থেকেই নিজের শিক্ষাজীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি সমাজকল্যাণে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন এবং নিজের ধ্যান ধারণার জায়গা থেকে অন্য নারীদের জীবন মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। তিনি এ্যাপেক্স ও অগ্রগামী নামক দুটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কার্যকরী সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এছাড়াও বাংলা ক্রাফট ও উইমেন ওয়াচ বাংলাদেশ নামক দটি সংষ্থার সাথে এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে কাজ করেন। বন্যা ও দুর্যোগপীড়িত মানুষদের জন্যে খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমেও তিনি অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন সময়ে। তিনি বিভিন্ন টক শো তে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। ৯০০ এরও অধিক নারীকে সেলাই, কম্পিউটার পরিচালনা, ব্লক ও বাটিক কোর্স সহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছেন।

ফারজানা হক বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নিপীড়িত ও দুঃস্থ নারীদেরকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছেন ও তাদেরকে লিগ্যাল এইড এর ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন। নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে তাদেরকে সচেতন করে তুলেছেন। নারীদেরকে গৃহ নির্যাতন ও সব ধরণের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সম্যক জ্ঞান প্রদান করে একটি ছাতার নিচে তাদেরকে সমবেত করেছেন যেন যেকোন অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াতে পারে।

নিজ্বস্ব বুটিক হাউজ তৈরীর পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ চেক, প্রবর্তনা, নিপুণ, আড়ং ও গামীণ মেলার ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তার কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি International Jute Study Group (IJSG) and Jute Diversification Product Center (JDPC) এর এসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে অনÍর্ভূক্ত হন। এ দুটি সংস্থার হয়ে তিনি থাইল্যান্ড, বেইজিং, চায়না ও তুর্কি বাণিজ্যমেলায় প্রতিনিধিত্ব করেন ও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। তিনি লাস ভেগাস ম্যাজিক শো নামক আন্তর্জাতিক বস্ত্রমেলায় নিজস্ব বুথ সহ অংশগ্রহন করে আসছেন বহু বছর ধরে।

ফারজানা হক শুধু দেশেই নয় বরং এই প্রবাসেও তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোদমে। তিনি গ্রীন টাচ ম্যাটারনাল এ্যান্ড চাইল্ড নামক সংস্থায় রিসার্চ, প্ল্যানিং ও ডেভেলাপমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট এ অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ও ড্রাম এ সাধারণ সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ফারজানা স্বপ্ন দেখেন সুন্দর একটি সমাজব্যাবস্থার যেখানে প্রতিটি নারীই স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন ও প্রতিটি নারীর মর্যাদা সুনিশ্চিত হবে। আর এ লক্ষ্যে তিনি অব্যাহত কাজ করে যেতে চান শেষ পর্যন্ত।

Comments

comments

X