শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৩২
শিরোনাম
Thursday, February 9, 2017 5:28 am
A- A A+ Print

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে

স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাধারণত, সারাদিন চামড়ার জুতা পরে থাকার কারণে ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাস বৃদ্ধি পায়। এর থেকে পায়ে দুর্গন্ধ হয়।

এই প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক স্টেট পডিয়াট্রিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েসন’য়ের সভাপতি যোসেফ শান্দ্রা জানান, এ ধরনের জীবাণু অন্ধকার ও স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও জানান, শীতকাল পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার উপযুক্ত সময়। কারণ এই মৌসুমে পা আরামে রাখার জন্য ভারি জুতা পরা হয়। আর সারাদিনে পা ঘেমে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়।

আবার মোজা ছাড়া জুতা পরলেও পা ঘেমে জীবাণু তৈরি হয়। যা থেকে দুর্গন্ধ হয়।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু সহজ কৌশল তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদনে সেসব কৌশলগুলো জানানো হল।

মোজা ছাড়া জুতা না পরা

শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পায়ের পাতা বেশি ঘামে।

শান্দ্রা বলেন, “জুতা পরার সময় অবশ্যই মোজা পরা উচিত। কারণ পাতলা সুতির মোজাও পায়ের সঙ্গে আটকে থাকে এবং তা ঘাম শুষে নেয়। ফলে পায়ে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না।”

সিনথেটিকের বা উলের মোজাও ঘাম-রোধক হিসেবে কাজ করে।

মোজা পায়ের ঘাম শুষে নেয় তাই প্রতিদিন অন্তত একবার মোজা পরিবর্তন করতে হবে।

টি ব্যাগ ব্যবহার

পায়ের পাতায় ঘাম হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চা-পাতা বিশেষ উপযোগী। ফুটানো চা-পাতা দিয়ে প্রতিদিন ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে পা ঘামার পরিমাণ কমে। ফুটানো চা-পাতার অ্যাসিড জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং পায়ের খোলা লোমকূপ বন্ধ করে।

অ্যামেরিকান একাডেমি অফ পডিয়াট্রিক প্র্যাকটিস ম্যানেজমেন্টের তথ্যানুসারে, প্রতি ২০ আউন্স পানিতে দুটি টি ব্যাগ দিয়ে, তা ঠাণ্ডা করে পা ডুবিয়ে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

জীবাণুনাশক ব্যবহার করে

প্রতিদিন একবার অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল ফুট স্প্রে ব্যবহার করলে পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা কমে। কেউ স্প্রে করতে না চাইলে অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। পায়ে অ্যান্টিফাংগাল স্প্রে করে বা পাউডার ছিটিয়ে মোজা পরে নিতে হবে। এতে পায়ে জীবাণুর বিস্তার কম হয়। ফলে দুর্গন্ধও হয় না।

প্রতিদিন একই জুতা না পরা

এক জামা যেমন দুই দিনের বেশি পরা যায় না, জুতার ক্ষেত্রেও তাই। একই জুতা প্রতিদিন পরলে জুতায় লেগে থাকা ঘাম ভালোমতো শুকায় না। ফলে জীবাণু বৃদ্ধি পায়। যেখান থেকে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই অন্তত দুই জোড়া জুতা রাখুন। একদিন এক জোড়া পরলে অন্যদিন অন্যজোড়া ‍জুতা পরুন।

মেয়েরা খেয়াল রাখুন, পরপর দুই দিন হাই হিল ব্যবহার না করাই ভালো। করলে হাড়ের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে।

তেমনি একই মোজা পরপর দুই দিন ব্যবহার করা উচিত না। প্রতিদিন ধোয়া মোজা ব্যবহার করুন।

পায়ের পাতায় বাতাস লাগতে দিন

যতটা সম্ভব পায়ের পাতা খোলা বাতাসে রাখা উচিত। তাই সময় পেলে যেমন, অফিসে কাজের ফাঁকে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় জুতা খুলে রাখা ভালো। এতে পা অক্সিজেনের সংস্পর্শে থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। তাই দুর্গন্ধও হয় না।

অনেক ধরনের জুতা আছে যেগুলোতে নকশাই করা থাকে ছোট ছোট ছিদ্র করে, এগুলো পরলে পা ঘামে কম। আবার কাপড়ের জুতা পরলেও পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। এই ধরনের জুতা ব্যবহার করলেও পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

মনে রাখবেন ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই এসব কৌশল নেওয়ার পরেও যদি সমস্যা না যায়, তবে খেয়াল করুন কী কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হচ্ছে। সেই হিসেবে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে

Thursday, February 9, 2017 5:28 am

স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাধারণত, সারাদিন চামড়ার জুতা পরে থাকার কারণে ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাস বৃদ্ধি পায়। এর থেকে পায়ে দুর্গন্ধ হয়।

এই প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক স্টেট পডিয়াট্রিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েসন’য়ের সভাপতি যোসেফ শান্দ্রা জানান, এ ধরনের জীবাণু অন্ধকার ও স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও জানান, শীতকাল পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার উপযুক্ত সময়। কারণ এই মৌসুমে পা আরামে রাখার জন্য ভারি জুতা পরা হয়। আর সারাদিনে পা ঘেমে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়।

আবার মোজা ছাড়া জুতা পরলেও পা ঘেমে জীবাণু তৈরি হয়। যা থেকে দুর্গন্ধ হয়।

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু সহজ কৌশল তুলে ধরা হয়। এই প্রতিবেদনে সেসব কৌশলগুলো জানানো হল।

মোজা ছাড়া জুতা না পরা

শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পায়ের পাতা বেশি ঘামে।

শান্দ্রা বলেন, “জুতা পরার সময় অবশ্যই মোজা পরা উচিত। কারণ পাতলা সুতির মোজাও পায়ের সঙ্গে আটকে থাকে এবং তা ঘাম শুষে নেয়। ফলে পায়ে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না।”

সিনথেটিকের বা উলের মোজাও ঘাম-রোধক হিসেবে কাজ করে।

মোজা পায়ের ঘাম শুষে নেয় তাই প্রতিদিন অন্তত একবার মোজা পরিবর্তন করতে হবে।

টি ব্যাগ ব্যবহার

পায়ের পাতায় ঘাম হওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চা-পাতা বিশেষ উপযোগী। ফুটানো চা-পাতা দিয়ে প্রতিদিন ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে পা ঘামার পরিমাণ কমে। ফুটানো চা-পাতার অ্যাসিড জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং পায়ের খোলা লোমকূপ বন্ধ করে।

অ্যামেরিকান একাডেমি অফ পডিয়াট্রিক প্র্যাকটিস ম্যানেজমেন্টের তথ্যানুসারে, প্রতি ২০ আউন্স পানিতে দুটি টি ব্যাগ দিয়ে, তা ঠাণ্ডা করে পা ডুবিয়ে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

জীবাণুনাশক ব্যবহার করে

প্রতিদিন একবার অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল ফুট স্প্রে ব্যবহার করলে পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা কমে। কেউ স্প্রে করতে না চাইলে অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। পায়ে অ্যান্টিফাংগাল স্প্রে করে বা পাউডার ছিটিয়ে মোজা পরে নিতে হবে। এতে পায়ে জীবাণুর বিস্তার কম হয়। ফলে দুর্গন্ধও হয় না।

প্রতিদিন একই জুতা না পরা

এক জামা যেমন দুই দিনের বেশি পরা যায় না, জুতার ক্ষেত্রেও তাই। একই জুতা প্রতিদিন পরলে জুতায় লেগে থাকা ঘাম ভালোমতো শুকায় না। ফলে জীবাণু বৃদ্ধি পায়। যেখান থেকে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই অন্তত দুই জোড়া জুতা রাখুন। একদিন এক জোড়া পরলে অন্যদিন অন্যজোড়া ‍জুতা পরুন।

মেয়েরা খেয়াল রাখুন, পরপর দুই দিন হাই হিল ব্যবহার না করাই ভালো। করলে হাড়ের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে।

তেমনি একই মোজা পরপর দুই দিন ব্যবহার করা উচিত না। প্রতিদিন ধোয়া মোজা ব্যবহার করুন।

পায়ের পাতায় বাতাস লাগতে দিন

যতটা সম্ভব পায়ের পাতা খোলা বাতাসে রাখা উচিত। তাই সময় পেলে যেমন, অফিসে কাজের ফাঁকে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় জুতা খুলে রাখা ভালো। এতে পা অক্সিজেনের সংস্পর্শে থাকে যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। তাই দুর্গন্ধও হয় না।

অনেক ধরনের জুতা আছে যেগুলোতে নকশাই করা থাকে ছোট ছোট ছিদ্র করে, এগুলো পরলে পা ঘামে কম। আবার কাপড়ের জুতা পরলেও পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। এই ধরনের জুতা ব্যবহার করলেও পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

মনে রাখবেন ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই এসব কৌশল নেওয়ার পরেও যদি সমস্যা না যায়, তবে খেয়াল করুন কী কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হচ্ছে। সেই হিসেবে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

Comments

comments

X