শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৪৩
শিরোনাম
Tuesday, April 4, 2017 7:25 am
A- A A+ Print

নেইমারের শততম আর সুয়ারেসের ঝলক

লিওনেল মেসিকে ছাড়া পারেনি আর্জেন্টিনা। তাঁর বহিষ্কারাদেশের পর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলতে নেমে হেরেছে বলিভিয়ার কাছে। বার্সেলোনা কিন্তু অমন হোঁচট খায়নি। লুইস সুয়ারেস, নেইমাররা রয়েছেন যে! পরশু গ্রানাদাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা রেসে ভালোভাবেই টিকে রইল লুইস এনরিকের দল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিষেধাজ্ঞা তাঁর চার ম্যাচের। আর বার্সার হয়ে কেবল পরশুর খেলাটিই। আন্তর্জাতিক বিরতির আগের সর্বশেষ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখানো হয় মেসিকে। লিগে সেটি তাঁর পঞ্চম কার্ড, যে কারণে গ্রানাদার বিপক্ষে ছিলেন বহিষ্কারাদেশের খাঁড়ায়। সামনে আরো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় পঞ্চম হলুদ কার্ডটি মেসি ইচ্ছা করেই ‘আদায়’ করেন বলে অনেকের ধারণা। আবার এরই মধ্যে চার হলুদ কার্ড পাওয়া জেরার্দ পিকেকেও পরশু কোচ মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেননি। পরের ম্যাচটি সেভিয়ার সঙ্গে বলে।

মেসিহীন বার্সার ওপর চাপটা আরো বেড়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদের জয়ে। নিজেদের ম্যাচে জিতে পয়েন্ট টেবিলে আবার ৫ পয়েন্টে এগিয়ে যায় জিনেদিন জিদানের দল। ম্যাচ বার্সার সমান। সে কারণে গ্রানাদার বিপক্ষে খেলায় জয়ের বিকল্প ছিল না বার্সার। সেটি তারা করতে পেরেছে বলেই নিঃশ্বাস ফেলছে এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘাড়ে। ২৮ খেলায় রিয়াল মাদ্রিদের এখন ৬৮ পয়েন্ট; এক ম্যাচ বেশি খেলা বার্সা পিছিয়ে ২ পয়েন্টে। আর্জেন্টাইন জাদুকর না থাকায় বার্সা সমর্থকরা খুব করে তাকিয়ে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান শিল্পীর দিকে। তবে পরশুর ম্যাচে অন্তত পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নিয়েছেন ত্রিফলার তৃতীয়জন সুয়ারেস। গোলের জন্য হাপিত্যেশ করা বার্সা স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় ৪৪তম মিনিটে ওই উরুগুইয়ানের লব থেকে করা দারুণ গোলে। বিরতির পর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গ্রানাদার জেরেমি বগা সমতা ফেরালে আবার অস্বস্তি কাতালানদের। তবে বেশিক্ষণের জন্য না। ৬৪তম মিনিটে পাকো আলকাসের আবার এগিয়ে দেন বার্সাকে। সুয়ারেসের পাস যে গোলের উৎস। ৮২ মিনিটে উচে আগবো লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে আর ফেরার পথ থাকে না গ্রানাদার। পরপরই ইভান রাকিটিচের শট প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে দিক বদলে জালে। বার্সার জয় ততক্ষণে নিশ্চিত। কিন্তু মেসিহীন দিনে তাঁর সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারের কিছু না করলে চলে! দারুণ এক টিম মুভের পরিণতি পায় তাই নেইমারের গোলে। বার্সার জার্সিতে ১৭৭ ম্যাচে ১০০তম গোল এই ব্রাজিলিয়ানের। এমন জয়ে কোচ এনরিকের আনন্দিত হওয়াই স্বাভাবিক, ‘আন্তর্জাতিক বিরতির পরের খেলাগুলো সব সময় কঠিন। তার ওপর আমাদের খেলতে হয়েছে প্রতিপক্ষের মাঠে। তবু সব মিলিয়ে আমরা খুব ভালো খেলেছি। ’ প্রশংসা করেছেন এক শ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা ব্রাজিলিয়ান শিষ্যেরও, ‘সংখ্যাই বলে দিচ্ছে কী ভয়ংকর এক ফুটবলার নেইমার। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে দেওয়ায় ওর জুড়ি নেই। ওকে বার্সায় নাম লেখানোর সিদ্ধান্তটি ছিল দুর্দান্ত। আশা করব, নেইমার যেন আরো ৯০০ গোল করে। আর আমরাও যেন বার্সার হয়ে ওকে আরো অনেক বছর খেলতে দেখি। ’

ওদিকে নিজেদের কাজটি পেশাদারি দক্ষতায় আগেই করে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আলাভেসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে অর্জনের ঝুলিতে পুরেছে মহামূল্যবান ৩ পয়েন্ট। করিম বেনজিমার গোলে শুরুর পর শেষদিকে ইসকো ও নাচোর লক্ষ্যভেদে জেতে জিদানের দল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৫০তম ম্যাচে গোল করা রিয়াল এখন লিগ টেবিলে এক ম্যাচ কম খেলে ২ পয়েন্টে এগিয়ে। ২০১১-১২ মৌসুমের পর আবার লিগ জেতার আশাতে তাতে রং লাগল আরেকটু।

ইতালিয়ান সিরি ‘এ’তে জুভেন্টাস এগোচ্ছে টানা ষষ্ঠ লিগ জয়ের পথে। পরশু নাপোলির সঙ্গে ১-১ গোলের ড্রতে ২ পয়েন্ট খুইয়েছে বটে। তবু ৩০ খেলায় ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে স্বচ্ছন্দেই টেবিল-শীর্ষে। দ্বিতীয়তে থাকা রোমা তাদের ৬ পয়েন্ট পেছনে। আর নাপোলি পেছনে ১০ পয়েন্ট। পরশুর ম্যাচে সপ্তম মিনিটেই জুভেন্টাস এগিয়ে যায় সামি খেদিরার গোলে। ৬০তম মিনিটে মারেক হামসিকের লক্ষ্যভেদে ড্র নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে পারে নাপোলি।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বড় ম্যাচে জিততে পারেনি আর্সেনাল-ম্যানচেস্টার সিটির কেউ। ২-২ গোলে ড্র হয়েছে খেলাটি। ‘গানার’দের কৃতিত্ব বলতে দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় শেষ করা। লেরয় সানের গোলে ম্যানসিটি এগিয়ে যাওয়ার পর থিও ওয়ালকটের গোল; সের্হিয়ো আগুয়েরো আবার এগিয়ে নেওয়ার পর শাখোদ্রান মুস্তাফির লক্ষ্যভেদে দ্বিতীয়বার আর্সেনালের সমতা। এই ড্রয়ে ২৯ খেলায় ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ-টেবিলে চার নম্বরে ম্যানসিটি; ২৮ খেলায় ৫১ পয়েন্টে ষষ্ঠ স্থানে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

নেইমারের শততম আর সুয়ারেসের ঝলক

Tuesday, April 4, 2017 7:25 am

লিওনেল মেসিকে ছাড়া পারেনি আর্জেন্টিনা। তাঁর বহিষ্কারাদেশের পর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলতে নেমে হেরেছে বলিভিয়ার কাছে। বার্সেলোনা কিন্তু অমন হোঁচট খায়নি। লুইস সুয়ারেস, নেইমাররা রয়েছেন যে! পরশু গ্রানাদাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা রেসে ভালোভাবেই টিকে রইল লুইস এনরিকের দল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিষেধাজ্ঞা তাঁর চার ম্যাচের। আর বার্সার হয়ে কেবল পরশুর খেলাটিই। আন্তর্জাতিক বিরতির আগের সর্বশেষ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখানো হয় মেসিকে। লিগে সেটি তাঁর পঞ্চম কার্ড, যে কারণে গ্রানাদার বিপক্ষে ছিলেন বহিষ্কারাদেশের খাঁড়ায়। সামনে আরো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় পঞ্চম হলুদ কার্ডটি মেসি ইচ্ছা করেই ‘আদায়’ করেন বলে অনেকের ধারণা। আবার এরই মধ্যে চার হলুদ কার্ড পাওয়া জেরার্দ পিকেকেও পরশু কোচ মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেননি। পরের ম্যাচটি সেভিয়ার সঙ্গে বলে।

মেসিহীন বার্সার ওপর চাপটা আরো বেড়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদের জয়ে। নিজেদের ম্যাচে জিতে পয়েন্ট টেবিলে আবার ৫ পয়েন্টে এগিয়ে যায় জিনেদিন জিদানের দল। ম্যাচ বার্সার সমান। সে কারণে গ্রানাদার বিপক্ষে খেলায় জয়ের বিকল্প ছিল না বার্সার। সেটি তারা করতে পেরেছে বলেই নিঃশ্বাস ফেলছে এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ঘাড়ে। ২৮ খেলায় রিয়াল মাদ্রিদের এখন ৬৮ পয়েন্ট; এক ম্যাচ বেশি খেলা বার্সা পিছিয়ে ২ পয়েন্টে। আর্জেন্টাইন জাদুকর না থাকায় বার্সা সমর্থকরা খুব করে তাকিয়ে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান শিল্পীর দিকে। তবে পরশুর ম্যাচে অন্তত পাদপ্রদীপের আলো কেড়ে নিয়েছেন ত্রিফলার তৃতীয়জন সুয়ারেস। গোলের জন্য হাপিত্যেশ করা বার্সা স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় ৪৪তম মিনিটে ওই উরুগুইয়ানের লব থেকে করা দারুণ গোলে। বিরতির পর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গ্রানাদার জেরেমি বগা সমতা ফেরালে আবার অস্বস্তি কাতালানদের। তবে বেশিক্ষণের জন্য না। ৬৪তম মিনিটে পাকো আলকাসের আবার এগিয়ে দেন বার্সাকে। সুয়ারেসের পাস যে গোলের উৎস। ৮২ মিনিটে উচে আগবো লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে আর ফেরার পথ থাকে না গ্রানাদার। পরপরই ইভান রাকিটিচের শট প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে দিক বদলে জালে। বার্সার জয় ততক্ষণে নিশ্চিত। কিন্তু মেসিহীন দিনে তাঁর সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারের কিছু না করলে চলে! দারুণ এক টিম মুভের পরিণতি পায় তাই নেইমারের গোলে। বার্সার জার্সিতে ১৭৭ ম্যাচে ১০০তম গোল এই ব্রাজিলিয়ানের। এমন জয়ে কোচ এনরিকের আনন্দিত হওয়াই স্বাভাবিক, ‘আন্তর্জাতিক বিরতির পরের খেলাগুলো সব সময় কঠিন। তার ওপর আমাদের খেলতে হয়েছে প্রতিপক্ষের মাঠে। তবু সব মিলিয়ে আমরা খুব ভালো খেলেছি। ’ প্রশংসা করেছেন এক শ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা ব্রাজিলিয়ান শিষ্যেরও, ‘সংখ্যাই বলে দিচ্ছে কী ভয়ংকর এক ফুটবলার নেইমার। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে দেওয়ায় ওর জুড়ি নেই। ওকে বার্সায় নাম লেখানোর সিদ্ধান্তটি ছিল দুর্দান্ত। আশা করব, নেইমার যেন আরো ৯০০ গোল করে। আর আমরাও যেন বার্সার হয়ে ওকে আরো অনেক বছর খেলতে দেখি। ’

ওদিকে নিজেদের কাজটি পেশাদারি দক্ষতায় আগেই করে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আলাভেসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে অর্জনের ঝুলিতে পুরেছে মহামূল্যবান ৩ পয়েন্ট। করিম বেনজিমার গোলে শুরুর পর শেষদিকে ইসকো ও নাচোর লক্ষ্যভেদে জেতে জিদানের দল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৫০তম ম্যাচে গোল করা রিয়াল এখন লিগ টেবিলে এক ম্যাচ কম খেলে ২ পয়েন্টে এগিয়ে। ২০১১-১২ মৌসুমের পর আবার লিগ জেতার আশাতে তাতে রং লাগল আরেকটু।

ইতালিয়ান সিরি ‘এ’তে জুভেন্টাস এগোচ্ছে টানা ষষ্ঠ লিগ জয়ের পথে। পরশু নাপোলির সঙ্গে ১-১ গোলের ড্রতে ২ পয়েন্ট খুইয়েছে বটে। তবু ৩০ খেলায় ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে স্বচ্ছন্দেই টেবিল-শীর্ষে। দ্বিতীয়তে থাকা রোমা তাদের ৬ পয়েন্ট পেছনে। আর নাপোলি পেছনে ১০ পয়েন্ট। পরশুর ম্যাচে সপ্তম মিনিটেই জুভেন্টাস এগিয়ে যায় সামি খেদিরার গোলে। ৬০তম মিনিটে মারেক হামসিকের লক্ষ্যভেদে ড্র নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে পারে নাপোলি।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বড় ম্যাচে জিততে পারেনি আর্সেনাল-ম্যানচেস্টার সিটির কেউ। ২-২ গোলে ড্র হয়েছে খেলাটি। ‘গানার’দের কৃতিত্ব বলতে দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় শেষ করা। লেরয় সানের গোলে ম্যানসিটি এগিয়ে যাওয়ার পর থিও ওয়ালকটের গোল; সের্হিয়ো আগুয়েরো আবার এগিয়ে নেওয়ার পর শাখোদ্রান মুস্তাফির লক্ষ্যভেদে দ্বিতীয়বার আর্সেনালের সমতা। এই ড্রয়ে ২৯ খেলায় ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ-টেবিলে চার নম্বরে ম্যানসিটি; ২৮ খেলায় ৫১ পয়েন্টে ষষ্ঠ স্থানে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল।

Comments

comments

X