শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৩১
শিরোনাম
Friday, May 27, 2016 4:17 am | আপডেটঃ May 27, 2016 4:25 AM
A- A A+ Print

নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী, অবস্থা আশঙ্কাজনক

গৃহকর্মী মা সালমা বেগমের অসুস্থতায় পরিবারের ভরণ-পোষণের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিল ১২ বছরের হাসিনা। মেয়েকে ভবিষ্যতের হাতে সঁপে দিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন সালমা বেগম ও তার স্বামী আবদুল সোবহান। কিন্তু ফিরে এসে মেয়েকে পেলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যখন হাসিনা লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, শরীফুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যক্তি ২০ মে রাত ৩টার দিকে অচেতন অবস্থায় হাসিনাকে ঢামেকে নিয়ে আসে। এসময় কর্তব্যরত গার্ডরা তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।

এরপর হাসিনাকে ভর্তি করা হয় ঢামেকের শিশু ওয়ার্ডে। সেখানেই অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকে শিশু হাসিনা।

বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে মঙ্গলবার মেয়েকে খুঁজতে ঢামেকে আসেন হাসিনা ও আবদুল। মেয়েকে প্রথমদিন না পেয়ে তারা যান মোহাম্মদপুরের সেই বাসায়। কিন্তু সে বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা।

পরে বুধবার সকালে আবারো ঢামেকে এসে শিশু ওয়ার্ডে খুঁজে পান শিশু হাসিনাকে। মা ক্রমাগত ডেকে যাচ্ছেন মেয়ের নাম ধরে। কিন্তু সাড়া দিচ্ছে না মেয়ে হাসিনা। বাবা ছুটছেন চিকিৎসকের পেছনে। অপেক্ষা কখন জ্ঞান ফিরবে মেয়ের।

সালমা বেগম বলেন, ‘আমি তো এমনভাবে আমার মেয়েকে রেখে যাইনি। কারা করেছে আমার মেয়ের এমন দশা! আমার মেয়ে তো কথা বলছে না।’

শরীফুল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে (লিজা) চিনতাম। কখনো তার স্বামীর নাম জানতে চাই নাই। শরীফুলই কিনা স্বামীর নাম আমি বলতে পারবো না।’

এদিকে ঢামেকে ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট-২ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মোস্তফা আল মামুন বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাঁচ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি মেয়েটি। মেয়েটির সারা গায়ে নতুন –পুরনো অসংখ্য ক্ষত দেখতে পেয়েছি। মাথার ক্ষত দিয়ে পুঁজ পড়ছে।’

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সিটি স্ক্যান করানোর পর হাসিনার বিস্তারিত জানা যাবে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামালউদ্দিন মীর জানান, তিনি ঘটনা শোনার পরই সোর্স পাঠিয়ে হাসিনার বাবা মাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী, অবস্থা আশঙ্কাজনক

Friday, May 27, 2016 4:17 am | আপডেটঃ May 27, 2016 4:25 AM

গৃহকর্মী মা সালমা বেগমের অসুস্থতায় পরিবারের ভরণ-পোষণের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিল ১২ বছরের হাসিনা। মেয়েকে ভবিষ্যতের হাতে সঁপে দিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন সালমা বেগম ও তার স্বামী আবদুল সোবহান। কিন্তু ফিরে এসে মেয়েকে পেলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যখন হাসিনা লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, শরীফুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যক্তি ২০ মে রাত ৩টার দিকে অচেতন অবস্থায় হাসিনাকে ঢামেকে নিয়ে আসে। এসময় কর্তব্যরত গার্ডরা তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।

এরপর হাসিনাকে ভর্তি করা হয় ঢামেকের শিশু ওয়ার্ডে। সেখানেই অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকে শিশু হাসিনা।

বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে মঙ্গলবার মেয়েকে খুঁজতে ঢামেকে আসেন হাসিনা ও আবদুল। মেয়েকে প্রথমদিন না পেয়ে তারা যান মোহাম্মদপুরের সেই বাসায়। কিন্তু সে বাসাটি তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা।

পরে বুধবার সকালে আবারো ঢামেকে এসে শিশু ওয়ার্ডে খুঁজে পান শিশু হাসিনাকে। মা ক্রমাগত ডেকে যাচ্ছেন মেয়ের নাম ধরে। কিন্তু সাড়া দিচ্ছে না মেয়ে হাসিনা। বাবা ছুটছেন চিকিৎসকের পেছনে। অপেক্ষা কখন জ্ঞান ফিরবে মেয়ের।

সালমা বেগম বলেন, ‘আমি তো এমনভাবে আমার মেয়েকে রেখে যাইনি। কারা করেছে আমার মেয়ের এমন দশা! আমার মেয়ে তো কথা বলছে না।’

শরীফুল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে (লিজা) চিনতাম। কখনো তার স্বামীর নাম জানতে চাই নাই। শরীফুলই কিনা স্বামীর নাম আমি বলতে পারবো না।’

এদিকে ঢামেকে ক্যাজুয়ালিটি ইউনিট-২ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মোস্তফা আল মামুন বলেন, ‘শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাঁচ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি মেয়েটি। মেয়েটির সারা গায়ে নতুন –পুরনো অসংখ্য ক্ষত দেখতে পেয়েছি। মাথার ক্ষত দিয়ে পুঁজ পড়ছে।’

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সিটি স্ক্যান করানোর পর হাসিনার বিস্তারিত জানা যাবে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামালউদ্দিন মীর জানান, তিনি ঘটনা শোনার পরই সোর্স পাঠিয়ে হাসিনার বাবা মাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments

X