শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:১২
শিরোনাম
Friday, March 17, 2017 8:39 am
A- A A+ Print

নির্বাক সামারাবীরা !

চার দিন আগে পি সারা ওভালের এক কোণে দাঁড়িয়ে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, বোলার সাকিব আর সেই সাকিব নেই। সাকিব এখন ২০১০ সালের সাকিবের ছায়া। প্রতিপক্ষ ব্যাটিংকে তছনছ করে দেওয়ার সেই বোলিং হারিয়ে গেছে।
কাল কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনের পড়ন্ত বেলায় সাকিবের ব্যাটিং দেখে শিউরে উঠলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ, আরেক শ্রীলঙ্কান থিলান সামারাবীরা। সাকিবের পাগুলে এবং ঝোড়ো ১৮ রানের ইনিংসটি দেখে বললেন, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার মাথায় কিছু আসছে না।’

৮ বল খেলে ৩ চারে ১৮ রান। এর মধ্যে দুবার আউট হতে হতে বেঁচে গেছেন। উইকেটটা খোয়াননি নিতান্তই ভাগ্য গুণে। বাংলাদেশ যে ৫ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করতে পেরেছে—এটিকেও সৌভাগ্যই বলছেন সামারাবীরা।
সাকিব বলেন, তিনি এভাবেই খেলেন। এটাই তাঁর খেলার ধরন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মুখে সততই ‘স্বাভাবিক’ খেলার জয়গান। তো সামারাবীরা এই স্বাভাবিক খেলাকে কোন চোখে দেখেন? তাঁর বিচারে স্বাভাবিক খেলাটাও দরকার, তবে সঙ্গে একটু টীকা থাকছে। ‘স্বাভাবিক খেলা ঠিক আছে, তবে প্রতিপক্ষ কী করছে, কীভাবে ফিল্ডিং সাজাচ্ছে, কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, এটা তো মাথায় রাখতে হবে। প্রতিদিন আপনি আপনার সহজাত খেলাটা খেলতে পারবেন না। এটা তো এক দিনের ক্রিকেট নয়। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে দলের সঙ্গে যোগ হয়েছেন সামারাবীরা। প্রায় সাত মাস ধরে তাহলে ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কী শেখালেন? তাঁর যুক্তিটা সাজানোই ছিল, ‘আমি দক্ষতা শেখাতে পারব না। আপনি যখন টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিং করবেন, প্রতিপক্ষ কী করছে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। মাঠে গিয়ে আপনাকে বুদ্ধিদীপ্ত থাকতে হবে।’ ভালো শুরুর পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং বারবার কেন এমন ভেঙে পড়ছে, এমন প্রশ্নে সামারাবীরা উত্তর দিতে গিয়ে টেনে এনেছেন গলে কুশল মেন্ডিসের ইনিংসটিকে, ‘গলে সে শূন্য রানে জীবন পেয়েছিল, তারপর খেলল ১৯০ (আসলে ১৯৪) রানের ইনিংস। আপনার ওপরের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে সেঞ্চুরির জন্য খেলতে হবে। ৫০ করে আপনি তুষ্ট থাকতে পারেন না।’
একই ভুল বারবার করে চলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এ নিদারুণ বাস্তবতা বাকরুদ্ধ করে দিচ্ছে সামারাবীরাকে, ‘হ্যাঁ, একই ভুল বারবার হচ্ছে। আমি আসলে বুঝে উঠতে পারছি না। যখন ধস নামছে, তা আর ঠেকাতে পারছি না আমরা।’

কালকের ধসের জন্য সামারাবীরার কাঠগড়ায় উঠেছে একটি পাগুলে শট। বলাই বাহুল্য, সেটি চায়নাম্যান বোলার লক্ষ্মণ সান্দাকানের করা ৫৭তম ওভারে। আর সেই শটটি খেলেছেন ইমরুল কায়েস। সামারাবীরা এটির কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।

ইমরুলের আউটের পর তাইজুল-সাব্বিরেরও বিদায়। দিনের শেষ চারটি ওভার ছিল রীতিমতো বিভীষিকা।
তবে সব খারাপ দিনের শেষেই যেমন ভালো দিন আসে, সাবেক শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানও আশায়, সেই ভালো দিন আসবে। আজ নতুন একটি দিন, হতে পারে আজকের দিনটাই সেই দিন। সামারাবীরা আশা করছেন শেষ ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ যতটা পারে, শ্রীলঙ্কার রানের কাছে যাবে। দিনের প্রথম ঘণ্টাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আশা, ভালো একটা জুটির ওপর দাঁড়িয়ে অন্তত ৫০ রানের লিড নেওয়া যাবে।
সেটি হবে কি না, আজ তা দেখা যাবে মাঠের ২২ গজে। তবে দেখাতে হবে সাকিব-মুশফিকদেরই। কদিন আগেই তো নিউজিল্যান্ডে এঁরা দুজন গড়েছেন ৩৫৯ রানের রেকর্ড এক জুটি।
দিনেশ চান্ডিমাল অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বাজিয়ে গেছেন সতর্ক সংকেত, ‘আমরা আশা করছি, কাল (আজ) থেকে বল টার্ন করতে শুরু করবে। আমরা সেটাই চাই।’
সামারাবীরার আশায় উচ্চকিত শব্দগুলোকে তখন আবার একটু ফিকে মনে হয়। তারপরও আশায় থাকতেই হয়। আশাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

নির্বাক সামারাবীরা !

Friday, March 17, 2017 8:39 am

চার দিন আগে পি সারা ওভালের এক কোণে দাঁড়িয়ে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, বোলার সাকিব আর সেই সাকিব নেই। সাকিব এখন ২০১০ সালের সাকিবের ছায়া। প্রতিপক্ষ ব্যাটিংকে তছনছ করে দেওয়ার সেই বোলিং হারিয়ে গেছে।
কাল কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনের পড়ন্ত বেলায় সাকিবের ব্যাটিং দেখে শিউরে উঠলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ, আরেক শ্রীলঙ্কান থিলান সামারাবীরা। সাকিবের পাগুলে এবং ঝোড়ো ১৮ রানের ইনিংসটি দেখে বললেন, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার মাথায় কিছু আসছে না।’

৮ বল খেলে ৩ চারে ১৮ রান। এর মধ্যে দুবার আউট হতে হতে বেঁচে গেছেন। উইকেটটা খোয়াননি নিতান্তই ভাগ্য গুণে। বাংলাদেশ যে ৫ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করতে পেরেছে—এটিকেও সৌভাগ্যই বলছেন সামারাবীরা।
সাকিব বলেন, তিনি এভাবেই খেলেন। এটাই তাঁর খেলার ধরন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মুখে সততই ‘স্বাভাবিক’ খেলার জয়গান। তো সামারাবীরা এই স্বাভাবিক খেলাকে কোন চোখে দেখেন? তাঁর বিচারে স্বাভাবিক খেলাটাও দরকার, তবে সঙ্গে একটু টীকা থাকছে। ‘স্বাভাবিক খেলা ঠিক আছে, তবে প্রতিপক্ষ কী করছে, কীভাবে ফিল্ডিং সাজাচ্ছে, কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, এটা তো মাথায় রাখতে হবে। প্রতিদিন আপনি আপনার সহজাত খেলাটা খেলতে পারবেন না। এটা তো এক দিনের ক্রিকেট নয়। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে দলের সঙ্গে যোগ হয়েছেন সামারাবীরা। প্রায় সাত মাস ধরে তাহলে ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কী শেখালেন? তাঁর যুক্তিটা সাজানোই ছিল, ‘আমি দক্ষতা শেখাতে পারব না। আপনি যখন টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিং করবেন, প্রতিপক্ষ কী করছে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। মাঠে গিয়ে আপনাকে বুদ্ধিদীপ্ত থাকতে হবে।’ ভালো শুরুর পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং বারবার কেন এমন ভেঙে পড়ছে, এমন প্রশ্নে সামারাবীরা উত্তর দিতে গিয়ে টেনে এনেছেন গলে কুশল মেন্ডিসের ইনিংসটিকে, ‘গলে সে শূন্য রানে জীবন পেয়েছিল, তারপর খেলল ১৯০ (আসলে ১৯৪) রানের ইনিংস। আপনার ওপরের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে সেঞ্চুরির জন্য খেলতে হবে। ৫০ করে আপনি তুষ্ট থাকতে পারেন না।’
একই ভুল বারবার করে চলেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এ নিদারুণ বাস্তবতা বাকরুদ্ধ করে দিচ্ছে সামারাবীরাকে, ‘হ্যাঁ, একই ভুল বারবার হচ্ছে। আমি আসলে বুঝে উঠতে পারছি না। যখন ধস নামছে, তা আর ঠেকাতে পারছি না আমরা।’

কালকের ধসের জন্য সামারাবীরার কাঠগড়ায় উঠেছে একটি পাগুলে শট। বলাই বাহুল্য, সেটি চায়নাম্যান বোলার লক্ষ্মণ সান্দাকানের করা ৫৭তম ওভারে। আর সেই শটটি খেলেছেন ইমরুল কায়েস। সামারাবীরা এটির কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।

ইমরুলের আউটের পর তাইজুল-সাব্বিরেরও বিদায়। দিনের শেষ চারটি ওভার ছিল রীতিমতো বিভীষিকা।
তবে সব খারাপ দিনের শেষেই যেমন ভালো দিন আসে, সাবেক শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানও আশায়, সেই ভালো দিন আসবে। আজ নতুন একটি দিন, হতে পারে আজকের দিনটাই সেই দিন। সামারাবীরা আশা করছেন শেষ ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ যতটা পারে, শ্রীলঙ্কার রানের কাছে যাবে। দিনের প্রথম ঘণ্টাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আশা, ভালো একটা জুটির ওপর দাঁড়িয়ে অন্তত ৫০ রানের লিড নেওয়া যাবে।
সেটি হবে কি না, আজ তা দেখা যাবে মাঠের ২২ গজে। তবে দেখাতে হবে সাকিব-মুশফিকদেরই। কদিন আগেই তো নিউজিল্যান্ডে এঁরা দুজন গড়েছেন ৩৫৯ রানের রেকর্ড এক জুটি।
দিনেশ চান্ডিমাল অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বাজিয়ে গেছেন সতর্ক সংকেত, ‘আমরা আশা করছি, কাল (আজ) থেকে বল টার্ন করতে শুরু করবে। আমরা সেটাই চাই।’
সামারাবীরার আশায় উচ্চকিত শব্দগুলোকে তখন আবার একটু ফিকে মনে হয়। তারপরও আশায় থাকতেই হয়। আশাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

Comments

comments

X