বুধবার, ১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:২০
শিরোনাম
Friday, March 3, 2017 12:59 am
A- A A+ Print

দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ পেলে আয় বাড়ে ৬ গুণ: ব্র্যাক

দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর কর্মসংস্থান হলে কিশোর-কিশোরীদের মাসিক গড় আয় প্রায় ছয়গুণ বাড়ে বলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

ওই গবেষণায় বলা হয়, প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ায় বাল্যবিয়ের হার ৬২ শতাংশ কমে আসে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দি পাওয়ার অফ অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে সংস্থাটি পরিচালিত ওই গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে আয়োজিত এই সেমিনার থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানায় ব্র্যাক।

সেমিনারে দক্ষতা প্রশিক্ষণের ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিষয়ক দুটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য ও রেহনুমা রহমান।

প্রাথমিকভাবে ২০১২-২০১৫ সালে দেশের সাতটি জেলায় ৫৭৩ জনের ওপর প্রথম গবেষণা জরিপটি পরিচালিত হয়, যাদের মধ্যে ২৮০ জন ব্র্যাক থেকে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

এ গবেষণার ফলে দেখা যায়, প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কিশোরীদের মধ্যে বাল্য বিবাহের হার ৬২ শতাংশের কম।

এছাড়া ২০১৪-২০১৫ সালে ‘জীবন যাত্রার ওপর দক্ষতা প্রশিক্ষণের প্রভাব’ শীর্ষক ১৫টি জেলায় পরিচালিত দ্বিতীয় জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪৪ জন ছিল দক্ষতা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যাদের মাসিক গড় আয় ছিল ১৬৬.৮৫ টাকা। প্রশিক্ষণের ৬ মাস পর তাদের গড় আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২০৮৯.৪১ টাকা।

অপরদিকে প্রশিক্ষণবিহীন কিশোর-কিশোরীদের গড় আয় ৩৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১২৭০ টাকা।

গবেষণায় দেখা যায়, দক্ষতার প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের গড় আয় বাকিদের তুলনায় ৬ গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সঞ্চয়ের প্রবণতা বেড়েছে প্রায় ৭.৫ গুণ। ক্রয় ক্ষমতা ও সঞ্চয় বেড়ে যাওয়ায় তারা খাদ্যব্যয়ও ৯ শতাংশ বাড়াতে পেরেছে।
ব্র্যাক আয়োজিত এই সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপার।

দক্ষতা উন্নয়নে ২৩টি মন্ত্রণালয় ও ৩৫ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমরা দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে একই ছাতার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে একটা ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

টেকসই উন্নয়নে সফলতা আনতে হলে দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শ্রম সচিব।

ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নেওয়া মোসাম্মত খাদিজা সেমিনারের ফাঁকে তার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে ওঠার কথা জানান ।তিনি বলেন, “ব্র্যাকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। এখান (ব্র্যাক) থেকেই আমাকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে। আমি এখন সাত হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে নিজের খরচেই চলতে পারছি।”

সেমিনারে স্কিলস ট্রেনিং ফর অ্যাডভানসিং রিসোর্স (স্টার) শীর্ষক পর্যালোচনা তুলে ধরেন ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার জয়দীপ সিনহা রায়।

তিনি বলেন, “২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক স্টারের (স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাডভান্সিং রিসোর্স) আওতায় ১৮ হাজার ৯০০ জন কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশই নারী। এই কর্মসূচির আওতায় ব্র্যাক ২০২০ সাল নাগাদ প্রায় ৫ লাখ কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।”

ব্র্যাকের স্ট্রাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির পরিচালক আসিফ সালেহের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের কো-চেয়ারপারসন সালাউদ্দিন কাশেম খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খোরশেদ আলম, ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক তাহসিনা আহমেদ।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ পেলে আয় বাড়ে ৬ গুণ: ব্র্যাক

Friday, March 3, 2017 12:59 am

দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর কর্মসংস্থান হলে কিশোর-কিশোরীদের মাসিক গড় আয় প্রায় ছয়গুণ বাড়ে বলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

ওই গবেষণায় বলা হয়, প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ায় বাল্যবিয়ের হার ৬২ শতাংশ কমে আসে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দি পাওয়ার অফ অ্যাপ্রেন্টিসশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে সংস্থাটি পরিচালিত ওই গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরতে আয়োজিত এই সেমিনার থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানায় ব্র্যাক।

সেমিনারে দক্ষতা প্রশিক্ষণের ফলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিষয়ক দুটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন ব্র্যাকের গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য ও রেহনুমা রহমান।

প্রাথমিকভাবে ২০১২-২০১৫ সালে দেশের সাতটি জেলায় ৫৭৩ জনের ওপর প্রথম গবেষণা জরিপটি পরিচালিত হয়, যাদের মধ্যে ২৮০ জন ব্র্যাক থেকে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।

এ গবেষণার ফলে দেখা যায়, প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কিশোরীদের মধ্যে বাল্য বিবাহের হার ৬২ শতাংশের কম।

এছাড়া ২০১৪-২০১৫ সালে ‘জীবন যাত্রার ওপর দক্ষতা প্রশিক্ষণের প্রভাব’ শীর্ষক ১৫টি জেলায় পরিচালিত দ্বিতীয় জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪৪ জন ছিল দক্ষতা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যাদের মাসিক গড় আয় ছিল ১৬৬.৮৫ টাকা। প্রশিক্ষণের ৬ মাস পর তাদের গড় আয় বেড়ে দাঁড়ায় ২০৮৯.৪১ টাকা।

অপরদিকে প্রশিক্ষণবিহীন কিশোর-কিশোরীদের গড় আয় ৩৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১২৭০ টাকা।

গবেষণায় দেখা যায়, দক্ষতার প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের গড় আয় বাকিদের তুলনায় ৬ গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সঞ্চয়ের প্রবণতা বেড়েছে প্রায় ৭.৫ গুণ। ক্রয় ক্ষমতা ও সঞ্চয় বেড়ে যাওয়ায় তারা খাদ্যব্যয়ও ৯ শতাংশ বাড়াতে পেরেছে।
ব্র্যাক আয়োজিত এই সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপার।

দক্ষতা উন্নয়নে ২৩টি মন্ত্রণালয় ও ৩৫ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমরা দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে একই ছাতার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে একটা ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

টেকসই উন্নয়নে সফলতা আনতে হলে দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শ্রম সচিব।

ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নেওয়া মোসাম্মত খাদিজা সেমিনারের ফাঁকে তার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে ওঠার কথা জানান ।তিনি বলেন, “ব্র্যাকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। এখান (ব্র্যাক) থেকেই আমাকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে। আমি এখন সাত হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে নিজের খরচেই চলতে পারছি।”

সেমিনারে স্কিলস ট্রেনিং ফর অ্যাডভানসিং রিসোর্স (স্টার) শীর্ষক পর্যালোচনা তুলে ধরেন ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার জয়দীপ সিনহা রায়।

তিনি বলেন, “২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক স্টারের (স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাডভান্সিং রিসোর্স) আওতায় ১৮ হাজার ৯০০ জন কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশই নারী। এই কর্মসূচির আওতায় ব্র্যাক ২০২০ সাল নাগাদ প্রায় ৫ লাখ কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।”

ব্র্যাকের স্ট্রাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির পরিচালক আসিফ সালেহের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদের কো-চেয়ারপারসন সালাউদ্দিন কাশেম খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খোরশেদ আলম, ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক তাহসিনা আহমেদ।

Comments

comments

X