সোমবার, ২১শে মে, ২০১৮ ইং, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:০৬
শিরোনাম
Saturday, August 5, 2017 12:20 am
A- A A+ Print

কাতারে বিদেশিদের বসবাসের নতুন নীতিমালা

কাতারে বসবাসকারী যেসব বিদেশি দেশটির জন্য সুফল বয়ে আনছে, তাদেরসহ বেশ কয়েকটি শ্রেণিকে স্থায়ী বসবাসকারীর মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে কাতারকে আঞ্চলিকভাবে একঘরে করে দেওয়া আরব জোটের অন্তত একটি শর্ত পূরণ হলো।

কাতারের মন্ত্রিসভা গত বুধবার বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার প্রদানসংক্রান্ত এক পদক্ষেপের অনুমোদন দেয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ কাতারেই প্রথম। এমন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ বিদেশি নতুন নীতিমালার আওতায় পড়বে।

কাতারে স্থায়ী বসবাসের অধিকারপ্রাপ্ত বিদেশিরা সেখানকার সাধারণ নাগরিকদের মতোই স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব সরকারি সেবা বিনা মূল্যে পাবে। প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিজীবী হিসেবে তাদের দেওয়া হবে বিশেষ সুবিধা। তারা কাতারে ব্যবসাও করতে পারবে এবং সে ক্ষেত্রে তাদের কোনো কাতারি অংশীদার রাখার বাধ্যবাধকতা মানতে হবে না। কাতারের সম্পত্তির মালিক হতেও তাদের কোনো বাধা থাকছে না। ২৪ লাখ জন-অধ্যুষিত কাতারের ৯০ শতাংশ মানুষ বিদেশি। নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার জন্যই তাদের এ অভিবাসীনির্ভরতা।

বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইনও দোহায় ছিল। কিন্তু আরব জোটের নিষেধাজ্ঞা আর শর্তের কবলে পড়ে তারা বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদান বন্ধ রাখে। আর এখন বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদানের পরিবর্তে স্থায়ী বসবাসের অধিকার প্রদানের নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে দোহা।
গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সড়ক-নৌ-আকাশ যোগাযোগ ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন ও মিসর। তিন সপ্তাহের মাথায় তারা জানায়, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে চাইলে কাতারকে ১৩টি শর্ত মানতে হবে। এসব শর্তারোপের পর কাতার বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা সে সময় জানিয়েছিলেন, অবরোধ আরোপকারী চারটি দেশের মানুষকে কাতারের নাগরিকত্ব প্রদান বন্ধ করার শর্তও ওই ১৩ শর্তের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া অন্যতম আরো কিছু শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করা, কাতারে তুরস্কের সেনাঘাঁটি বন্ধ করা এবং আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা।

কাতার এসব শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও বাস্তবায়নের অযোগ্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে শর্ত প্রদানকারী আরব জোটও তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। কিন্তু অবরোধ আরোপের দুই মাসের মাথায় কাতার জানাল, তারা বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার দিচ্ছে। সূত্র : এএফপি।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

কাতারে বিদেশিদের বসবাসের নতুন নীতিমালা

Saturday, August 5, 2017 12:20 am

কাতারে বসবাসকারী যেসব বিদেশি দেশটির জন্য সুফল বয়ে আনছে, তাদেরসহ বেশ কয়েকটি শ্রেণিকে স্থায়ী বসবাসকারীর মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে কাতারকে আঞ্চলিকভাবে একঘরে করে দেওয়া আরব জোটের অন্তত একটি শর্ত পূরণ হলো।

কাতারের মন্ত্রিসভা গত বুধবার বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার প্রদানসংক্রান্ত এক পদক্ষেপের অনুমোদন দেয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ কাতারেই প্রথম। এমন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ বিদেশি নতুন নীতিমালার আওতায় পড়বে।

কাতারে স্থায়ী বসবাসের অধিকারপ্রাপ্ত বিদেশিরা সেখানকার সাধারণ নাগরিকদের মতোই স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সব সরকারি সেবা বিনা মূল্যে পাবে। প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিজীবী হিসেবে তাদের দেওয়া হবে বিশেষ সুবিধা। তারা কাতারে ব্যবসাও করতে পারবে এবং সে ক্ষেত্রে তাদের কোনো কাতারি অংশীদার রাখার বাধ্যবাধকতা মানতে হবে না। কাতারের সম্পত্তির মালিক হতেও তাদের কোনো বাধা থাকছে না। ২৪ লাখ জন-অধ্যুষিত কাতারের ৯০ শতাংশ মানুষ বিদেশি। নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার জন্যই তাদের এ অভিবাসীনির্ভরতা।

বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইনও দোহায় ছিল। কিন্তু আরব জোটের নিষেধাজ্ঞা আর শর্তের কবলে পড়ে তারা বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদান বন্ধ রাখে। আর এখন বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদানের পরিবর্তে স্থায়ী বসবাসের অধিকার প্রদানের নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে দোহা।
গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সড়ক-নৌ-আকাশ যোগাযোগ ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন ও মিসর। তিন সপ্তাহের মাথায় তারা জানায়, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে চাইলে কাতারকে ১৩টি শর্ত মানতে হবে। এসব শর্তারোপের পর কাতার বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা সে সময় জানিয়েছিলেন, অবরোধ আরোপকারী চারটি দেশের মানুষকে কাতারের নাগরিকত্ব প্রদান বন্ধ করার শর্তও ওই ১৩ শর্তের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া অন্যতম আরো কিছু শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করা, কাতারে তুরস্কের সেনাঘাঁটি বন্ধ করা এবং আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা।

কাতার এসব শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও বাস্তবায়নের অযোগ্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে শর্ত প্রদানকারী আরব জোটও তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। কিন্তু অবরোধ আরোপের দুই মাসের মাথায় কাতার জানাল, তারা বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের অধিকার দিচ্ছে। সূত্র : এএফপি।

Comments

comments

X