রবিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:০৭
শিরোনাম
Saturday, August 5, 2017 12:10 am
A- A A+ Print

এআইআইবির কাছে ১ ‍বিলিয়ন ডলার চায় বাংলাদেশ

এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছে সাতটি প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ হবে আট হাজার কোটি টাকা।
এআইআইবির সফররত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি জে পান্ডিয়ানের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এআইআইবির পাঁচ ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পান্ডিয়ান আগের দিন বুধবার ঢাকা সফরে আসেন। তিনি সংস্থাটির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তাও।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আজ আমার প্রথম মোলাকাত। এ পর্যন্ত গঠিত ব্যাংকগুলোর (দাতা সংস্থা বা উন্নয়ন-সহযোগী) মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে এআইআইবি। এর বড় শেয়ারধারী চীন।’
আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, এআইআইবির কার্যক্রম শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও গত জুনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় তিনি যেতে পারেননি, গিয়েছিলেন সচিব। এআইআইবির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। বাংলাদেশ এআইআইবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদন করে এআইআইবি পর্ষদ। এটা ছিল সংস্থাটির পর্ষদে প্রথম কোনো ঋণ অনুমোদন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুটি প্রকল্প এআইআইবির অর্থায়নে চলছে। এর একটি হচ্ছে বিদ্যুতের সঞ্চালন পদ্ধতির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ আর অন্যটি প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামো দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প।
নতুন সাতটির মধ্যে তিনটি বিদ্যুৎ, তিনটি রেলপথ ও একটি সড়ক খাতের প্রকল্প। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গজারিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুতের সঞ্চালন পদ্ধতির উন্নয়ন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ-ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, বরিশালের দুমকি রোডে সেতু নির্মাণ ইত্যাদি।

বিশ্বব্যাংক বা অন্য উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার চেয়ে এআইআইবির ঋণের সুদ একটু বেশি এবং তা ২ শতাংশ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এআইআইবির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন কি সরকারের পূর্বমুখী কূটনীতির অংশ—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তা বলা যায়। কারণ, সবাই জানেন যে এটা হচ্ছে এশিয়ার শতাব্দী। কিন্তু এশিয়াতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের দরকার।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমেরিকা উন্নত দেশ। কিন্তু ওখানে মূলত ভোগবাদী সমাজ। সঞ্চয় হচ্ছে এশীয় লোকদের অভ্যাস। একসময় বলা হতো জাপান এ ব্যাপারে ভালো। এখন দেখা যাচ্ছে চীন আরও ভালো। অবশ্য এ ব্যাপারে ভালো কোরিয়া-ভারতও।’

চলতি মাসে চীন সফরে যাচ্ছেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যেসব প্রকল্প হওয়ার কথা সেগুলোর সঙ্গে এআইআইবির ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই।
এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি জে পান্ডিয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই এআইআইবির প্রথম ঋণ অনুমোদনই হয় বাংলাদেশের জন্য।’ এআইআইবির ঋণগুলো লম্বা সময়ের জন্য দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে এবং জনসংখ্যাও বাড়ছে—এ কথা উল্লেখ করে পান্ডিয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।’
বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)—এসব সংস্থা থেকে সাধারণত ঋণ নেয় বাংলাদেশ। এআইআইবি গঠিত হওয়ায় স্বল্প সুদে ঋণ নিতে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন জায়গা তৈরি হয়।

১০ হাজার কোটি ডলারের পরিশোধিত মূলধনের এ সংস্থার এক-তৃতীয়াংশই চীনের। ‘সাশ্রয়ী দাম, উৎকৃষ্ট মান’ হলো এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নে এআইআইবির বিনিয়োগ দর্শন।

এআইআইবির প্রথম বার্ষিক সভা চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হলেও এ বছর দ্বিতীয় সভা হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। ২০১৮ সালের জুনে ভারতের মুম্বাইয়ে সংস্থাটির তৃতীয় বার্ষিক সভা হওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

এআইআইবির কাছে ১ ‍বিলিয়ন ডলার চায় বাংলাদেশ

Saturday, August 5, 2017 12:10 am

এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছে সাতটি প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ হবে আট হাজার কোটি টাকা।
এআইআইবির সফররত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি জে পান্ডিয়ানের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এআইআইবির পাঁচ ভাইস প্রেসিডেন্টের একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পান্ডিয়ান আগের দিন বুধবার ঢাকা সফরে আসেন। তিনি সংস্থাটির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তাও।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আজ আমার প্রথম মোলাকাত। এ পর্যন্ত গঠিত ব্যাংকগুলোর (দাতা সংস্থা বা উন্নয়ন-সহযোগী) মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন হচ্ছে এআইআইবি। এর বড় শেয়ারধারী চীন।’
আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, এআইআইবির কার্যক্রম শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও গত জুনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় তিনি যেতে পারেননি, গিয়েছিলেন সচিব। এআইআইবির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে। বাংলাদেশ এআইআইবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদন করে এআইআইবি পর্ষদ। এটা ছিল সংস্থাটির পর্ষদে প্রথম কোনো ঋণ অনুমোদন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুটি প্রকল্প এআইআইবির অর্থায়নে চলছে। এর একটি হচ্ছে বিদ্যুতের সঞ্চালন পদ্ধতির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ আর অন্যটি প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামো দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প।
নতুন সাতটির মধ্যে তিনটি বিদ্যুৎ, তিনটি রেলপথ ও একটি সড়ক খাতের প্রকল্প। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গজারিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুতের সঞ্চালন পদ্ধতির উন্নয়ন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ-ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, বরিশালের দুমকি রোডে সেতু নির্মাণ ইত্যাদি।

বিশ্বব্যাংক বা অন্য উন্নয়ন-সহযোগী সংস্থার চেয়ে এআইআইবির ঋণের সুদ একটু বেশি এবং তা ২ শতাংশ বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এআইআইবির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন কি সরকারের পূর্বমুখী কূটনীতির অংশ—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তা বলা যায়। কারণ, সবাই জানেন যে এটা হচ্ছে এশিয়ার শতাব্দী। কিন্তু এশিয়াতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের দরকার।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমেরিকা উন্নত দেশ। কিন্তু ওখানে মূলত ভোগবাদী সমাজ। সঞ্চয় হচ্ছে এশীয় লোকদের অভ্যাস। একসময় বলা হতো জাপান এ ব্যাপারে ভালো। এখন দেখা যাচ্ছে চীন আরও ভালো। অবশ্য এ ব্যাপারে ভালো কোরিয়া-ভারতও।’

চলতি মাসে চীন সফরে যাচ্ছেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যেসব প্রকল্প হওয়ার কথা সেগুলোর সঙ্গে এআইআইবির ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই।
এআইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডি জে পান্ডিয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই এআইআইবির প্রথম ঋণ অনুমোদনই হয় বাংলাদেশের জন্য।’ এআইআইবির ঋণগুলো লম্বা সময়ের জন্য দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে এবং জনসংখ্যাও বাড়ছে—এ কথা উল্লেখ করে পান্ডিয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।’
বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা)—এসব সংস্থা থেকে সাধারণত ঋণ নেয় বাংলাদেশ। এআইআইবি গঠিত হওয়ায় স্বল্প সুদে ঋণ নিতে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন জায়গা তৈরি হয়।

১০ হাজার কোটি ডলারের পরিশোধিত মূলধনের এ সংস্থার এক-তৃতীয়াংশই চীনের। ‘সাশ্রয়ী দাম, উৎকৃষ্ট মান’ হলো এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নে এআইআইবির বিনিয়োগ দর্শন।

এআইআইবির প্রথম বার্ষিক সভা চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হলেও এ বছর দ্বিতীয় সভা হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়। ২০১৮ সালের জুনে ভারতের মুম্বাইয়ে সংস্থাটির তৃতীয় বার্ষিক সভা হওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

Comments

comments

X