বুধবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:৩৩
শিরোনাম
Tuesday, September 5, 2017 4:07 am
A- A A+ Print

উ. কোরিয়ার ‘হাইড্রোজেন বোমা’র সফল পরীক্ষা আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রস্তুতি

উত্তর কোরিয়া আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সম্ভবত একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর আগাম লক্ষণ দেখেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সেই সঙ্গে দেশটি এ-ও জানিয়েছে যে গত সপ্তাহান্তে পিয়ংইয়ংয়ের ‘হাইড্রোজেন বোমা’র পরীক্ষা চালানোর পর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাডের মোতায়েন আরও বাড়াবে তারা।

এদিকে, উত্তর কোরিয়ার ওই পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সোমবার ক্ষেপণাস্ত্রের লাইভ মহড়া চালিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা চাং কেউং-সু পার্লামেন্টে বলেন, তাঁরা উত্তর কোরিয়ার আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার লক্ষণ দেখছে। এ সময় ওই কর্মকর্তা আগাম সতর্ক করে আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণও করতে পারে। ওই আইসিবিএম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বেঁধে দেওয়া কোনো সময়সীমা জানানো সম্ভব না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১০ অক্টোবরই এর সম্ভাব্য তারিখ। কারণ ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সেই দিন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পার্লামেন্টকে আরও জানান যে কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন রণতরি মোতায়েন করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড (টার্মিনাল হাই-অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স) লঞ্চার মোতায়েন করবে অস্থায়ীভাবে আরও চারটি। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্বল্প, মাঝারি ও মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সিউলের দক্ষিণের সিইয়ংজু এলাকায় ইতিমধ্যে দুটি থাড রয়েছে। প্রসঙ্গত, রাশিয়া ও চীন আবার থাড মোতায়েনের ঘোরতর বিরোধী।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস হুঁশিয়ার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্র দেশের প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের যেকোনো হুমকির জবাব ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুমকির পরই ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাল দক্ষিণ কোরিয়া। মহড়ায় যুদ্ধবিমান ও ভূমি থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়া এই মহড়ার ছবিও প্রকাশ করেছে গতকাল। ছবিতে দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

এর আগে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা গত রোববার সফলভাবে হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই বোমা পরমাণু বোমার চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করা সম্ভব। উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া। উল্লেখ্য, হাইড্রোজেন বোমা পরমাণু বোমার চেয়ে কয়েক গুণ শক্তিশালী। বিশ্লেষকেরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার এই দাবি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে উত্তর কোরিয়া। নিভৃতকামী দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রেরও পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। এমনকি মার্কিন ভূখণ্ডে হামলারও হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। এ নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা চলছে।

পিয়ংইয়ংয়ের সবশেষ পরমাণু পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনায় গতকাল সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকের আগ দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতারা উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হন বলে জানিয়েছেন সিউলের এক মুখপাত্র। এর আগে সবশেষ গত আগস্ট মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার রপ্তানি খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

উ. কোরিয়ার ‘হাইড্রোজেন বোমা’র সফল পরীক্ষা আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রস্তুতি

Tuesday, September 5, 2017 4:07 am

উত্তর কোরিয়া আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সম্ভবত একটি আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর আগাম লক্ষণ দেখেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সেই সঙ্গে দেশটি এ-ও জানিয়েছে যে গত সপ্তাহান্তে পিয়ংইয়ংয়ের ‘হাইড্রোজেন বোমা’র পরীক্ষা চালানোর পর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাডের মোতায়েন আরও বাড়াবে তারা।

এদিকে, উত্তর কোরিয়ার ওই পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সোমবার ক্ষেপণাস্ত্রের লাইভ মহড়া চালিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা চাং কেউং-সু পার্লামেন্টে বলেন, তাঁরা উত্তর কোরিয়ার আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার লক্ষণ দেখছে। এ সময় ওই কর্মকর্তা আগাম সতর্ক করে আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণও করতে পারে। ওই আইসিবিএম উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বেঁধে দেওয়া কোনো সময়সীমা জানানো সম্ভব না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১০ অক্টোবরই এর সম্ভাব্য তারিখ। কারণ ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সেই দিন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পার্লামেন্টকে আরও জানান যে কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন রণতরি মোতায়েন করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড (টার্মিনাল হাই-অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স) লঞ্চার মোতায়েন করবে অস্থায়ীভাবে আরও চারটি। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্বল্প, মাঝারি ও মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সিউলের দক্ষিণের সিইয়ংজু এলাকায় ইতিমধ্যে দুটি থাড রয়েছে। প্রসঙ্গত, রাশিয়া ও চীন আবার থাড মোতায়েনের ঘোরতর বিরোধী।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস হুঁশিয়ার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্র দেশের প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের যেকোনো হুমকির জবাব ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুমকির পরই ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাল দক্ষিণ কোরিয়া। মহড়ায় যুদ্ধবিমান ও ভূমি থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়া এই মহড়ার ছবিও প্রকাশ করেছে গতকাল। ছবিতে দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

এর আগে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা গত রোববার সফলভাবে হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই বোমা পরমাণু বোমার চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী, যা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করা সম্ভব। উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া। উল্লেখ্য, হাইড্রোজেন বোমা পরমাণু বোমার চেয়ে কয়েক গুণ শক্তিশালী। বিশ্লেষকেরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার এই দাবি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে উত্তর কোরিয়া। নিভৃতকামী দেশটি একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রেরও পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। এমনকি মার্কিন ভূখণ্ডে হামলারও হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। এ নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা চলছে।

পিয়ংইয়ংয়ের সবশেষ পরমাণু পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনায় গতকাল সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকের আগ দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতারা উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হন বলে জানিয়েছেন সিউলের এক মুখপাত্র। এর আগে সবশেষ গত আগস্ট মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার রপ্তানি খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

Comments

comments

X