শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৩১
শিরোনাম
Thursday, February 18, 2016 7:59 am | আপডেটঃ February 18, 2016 8:01 AM
A- A A+ Print

আ’লীগ সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী : আজমল আলী

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন আজমল আলী। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা আজমল ১৯৭৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। আমেরিকায় আসার পর এই দীর্ঘ সময় কেটেছে নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সি মিলিয়ে। এখন নিউজার্সিতেই থিতু হয়েছেন। সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নিউজার্সি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। ভালবাসেন ফুটবল। করেন সরকারি চাকরি। ব্যক্তিগতভাবে দুই সন্তানের জনক তিনি। দুই ছেলেই ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেলে পড়ালেখা করছে। জীবন সংগ্রামে জয়ী এই রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয় নতুন সকাল। অনেক কথার ভিড়ে হারিয়ে যান তিনি। তার উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

নতুন সকাল : আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হলেন কিভাবে?
আজমল আলী : ১৯৭১ সালে বয়স কম হলেও আমি দেশ স্বাধীন হতে দেখেছি। এখনও স্পষ্ট মনে আছে সেইসব দুর্বিসহ দিনের কথা। সেই শিশুকালেই বঙ্গবন্ধুর দরাজ গলা আমার মনের মধ্যে দাগ কেটেছে। তখন থেকেই এই মহানায়ককে আমি মনে প্রাণে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় কি জানেন? আমি যেদিন আমেরিকায় পা দিলাম সেদিনই আমাদের জাতির পিতাকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। সেই থেকে মনের মধ্যে তীব্র কষ্ট নিয়ে চলেছি। ওই কষ্টই আমাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে আমার আওয়ামী লীগে জড়িত হবার পেছনে তৎকালিন সেক্রেটারি আব্দুস সালাম এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নূরুন্নবী ভাই ও জাফর ইকবাল ভাইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। কারণ প্রথমে আমি বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউজার্সির সঙ্গে জড়িত ছিলাম এবং সব কিছুতেই নবী ভাইকে ফলো করতাম। তার সান্নিধ্যে এসেই মূলত আমার সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া।

নতুন সকাল : সংগঠনের নেতৃত্বে এলেন কবে থেকে?
আজমল আলী : বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি অনেক আগে থেকেই। তবে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি ২০১২ সাল থেকে।

নতুন সকাল : বিদেশে বসে রাজনীতি করার মধ্যে স্বার্থ কি আছে?
আজমল আলী : আসলে রাজনীতি একটি আদর্শিক বিষয়। সেখানে ব্যক্তিস্বার্থ খুঁজতে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তবে স্বার্থ একটা আছে; তাহলো জাতীয় স্বার্থ! আপনি বলতে পারেন, বিদেশে বসে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করা কিভাবে সম্ভব? আমি বলব সম্ভব! আপনারা স্বীকার করেন আর নাই করেন, যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্বের এক নম্বর ক্ষমতাধর রাষ্ট্র সেটাতো ঠিক। তাদের নীতি, তাদের সিদ্ধান্তের উপর বিশ্বের অনেক দেশের অনেক কিছুই নির্ভর করে। এক্ষেত্রে একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। বাংলাদেশে চারদলীয় জোট সরকার যখন ক্ষমতায়, এবং বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল যখন আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের হটাতে, তখন আমরা যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা মিলে অনেক লবিং করেছি। আমাদের সাংগঠনিক শক্তি থাকার কারণে আমরা অনেক সিনেটর-কংগ্রেসম্যানদের কাছে গিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা তুলে ধরতে পেরেছি। অনুরূপভাবে ১৯৯৬ সালেও আমরা বিএনপি সরকারকে হটাতে একই ধরণের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হই।

নতুন সকাল: তাহলে আপনি বলতে চান কোনো সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো বা উৎখাত করার জন্যই আপনাদের রাজনীতি?
আজমল আলী : বিষয়টিকে ওভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো-রাজনীতির মাধ্যমে কোনো কিছু আদায় করতে হলে আপনার সাংগঠনিক শক্তি থাকতে হবে। আমরা এখানে যারা রাজনীতি করি তারা সেই সাংগঠনিক শক্তি অর্জনের জন্যই একতাবদ্ধ হই। আর একতাবদ্ধ হলে অনেক কিছুই অর্জন করা সম্ভব। আমরা সেই চেষ্ঠায় করে যাচ্ছি।

নতুন সকাল : তাহলে নিউজার্সি আওয়ামী লীগ এত দ্বিধা বিভক্ত কেন?
আজমল আলী : এখানে আপনাকে একটা কথা বলে রাখি। কোনো সংগঠন যখন বড় আকার ধারণ করে তখন সেখানে কিছু মতবিরোধ, কিছু চাওয়া পাওয়ার বিষয় সামনে চলে আসে। পদ-পদবি, নেতৃত্ব নিয়ে কিছু ঝামেলা দেখা দেয়। নিউজার্সি আওয়ামী লীগও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে আমরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বলিষ্ট নেতৃত্বে এসব সাংগঠনিক দূর্বলতা ইতিমধ্যে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছি। আশা করছি খুব শিগগিরই সব মতবিরোধ ভুলে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে সঠিক নেতৃত্বের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হবো।

নতুন সকাল : শুনেছি নিউজার্সি আওয়ামী লীগ অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত-এটা কি ঠিক?
আজমল আলী : আপনি ঠিকই শুনেছেন। নিউজার্সি আওয়ামী লীগে তিনটি ভাগ দেখা দিয়েছিল। তার একটি আমার নেতৃত্বে। দ্বিতীয়টি সুজন আহমেদ সাজু ও সফিক গ্রুপ এবং তৃতীয়টি আব্দুল মালিক চুন্নু ও শামীম আহমেদের নেতৃত্বে গ্রুপ। তবে স্টেট আওয়ামী লীগের ভাগটি যুক্ত হয়ে এখন শুধুমাত্র নিউজার্সি আওয়ামী লীগ হিসেবেই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। আল্টান্টিক সিটিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা কাউন্সিল অধিবেশন ডেকে অন্য গ্রুপটিকেও একই প্লাটফরমে আনার চেষ্ঠা করছি।

নতুন সকাল : বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গী-সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ঘটছে তাকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
আজমল আলী : আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার সংগঠন। আমাদের মূল চেতনায় হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সেই চেষ্টায় করে যাচ্ছি। তবে বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক সংগঠন আছে যারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে সাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করে। এক্ষেত্রে আমি স্পষ্টভাবে বিএনপির কথা উল্লেখ করতে পারি। তারা স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির চক্রকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করে। আপনারা জানেন, এই দলটি কখনো বাংলাদেশকে স্বীকার করে না। আর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে এধরণের মৌলবাদী শক্তি সব সময়ই তৎপর। এক্ষেত্রে অতীতে বিএনপি সরকারে থাকতে যেমন সাম্প্রদায়িকতাতে লালন-পালন করেছে, বর্তমান সরকার সেই শক্তিতে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। এটাই বিএনপি এবং আমাদের সরকারের মধ্যে পার্থক্য।

নতুন সকাল : সবাই যখন উন্নত বিশ্বে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে চান তখন আপনি আপনার ছেলেদের আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা না দিয়ে বাংলাদেশে পাঠালেন কেন?
আজমল আলী : এক্ষেত্রে আমার ভেতর দুটি বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত আমি চেয়েছি আমার ছেলেরা বাংলাদেশ এবং আমার দেশের কালচার সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে জ্ঞান লাভ করুক। দ্বিতীয়ত; আমেরিকার মত জায়গায় দুটি ছেলেকে মেডিকেলে পড়াতে আমার প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হতো। সুতরাং উভয় দিক থেকে আমি সফল। বিশেষ করে আমার ছেলেরা বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা নিতে গিয়ে বাংলা ভাষাটাকে ভালভাবেই রপ্ত করেছে। যেটা আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম। তাছাড়া আমার দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কেও তারা ভালভাবে জানতে পারছে।

নতুন সকাল : তো রাজনীতির বাইরে আর কি ধরণের সামাজিক কাজকর্মে জড়িত আছেন?
আজমল আলী : রাজনীতির বাইরেও আমি অনেক ধরনের সামাজিক কাজে নিজেকে জড়িত রাখি। তবে আমি সৃজনশীল কাজে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করি। চার বছর আগে আমি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউজার্সির সেক্রেটারি ছিলাম। বর্তমান সেটি বাংলাদেশ সোসাইটি হিসাবে কমিউনিটির অনেক কাজ করছে। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ভাল লাগার বিষয় হচ্ছে ফুটবল। সেই ছোট বেলা থেকেই আমি খুবই ফুটবল প্রিয় মানুষ। প্রবাসে এসেও আমি সেই ধারা অব্যাহত রাখি। বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা স্পোটিং ক্লাব নামে একটি ফুটবল টিম পরিচালনা করছি। আমাদের এই ক্লাব নিউইয়র্ক স্পোর্টস কাউন্সিল লীগে খেলে দু’দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি মনে করি খেলাধূলাসহ যেকোনো সৃজনশীল কাজই পারে মানুষকে তার আপন মহিমায় উজ্জল করতে।

খেলাধূলার বাইরেও আমি অনেকগুলো সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। এখানে প্যাটারসনের ইউনিয়ন এভিনিউতে মসজিদ আল ফেরদৌসের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের ইলেকশন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ফোবানার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। জাগরণী শিল্পী গোষ্ঠী নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে আমাদের। আমি ছাড়াও এর প্রতিষ্ঠালগ্নে জড়িত ছিলেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী, শাহীনসহ আরো অনেকে। এছাড়া বিনা পারিশ্রমিকে আমি কমিউনিটির ডিজএ্যাবলদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সার্ভিস দিয়ে থাকি। এবি বা আমেরিকান-বাংলাদেশ এডুকেশন ফান্ড নামে একটি তহবিল গঠন করে আমরা বাংলাদেশে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাবৃত্তি প্রদান করছি। এ পর্যন্ত এই ফান্ড থেকে ১৯ জন ছাত্র-ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছি আমরা। এমন কি তাদের বাবা-মাকেও আমরা আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকি।

নতুন সকাল : এতক্ষণ কষ্ট করে ধৈর্য্য সহকারে নতুন সকালকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আজমল আলী : আপনার মাধ্যমে নতুন সকাল পরিবার এবং তার অগনিত পাঠককে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করি সবাই ভাল থাকবেন।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

আ’লীগ সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী : আজমল আলী

Thursday, February 18, 2016 7:59 am | আপডেটঃ February 18, 2016 8:01 AM

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন আজমল আলী। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা আজমল ১৯৭৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। আমেরিকায় আসার পর এই দীর্ঘ সময় কেটেছে নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সি মিলিয়ে। এখন নিউজার্সিতেই থিতু হয়েছেন। সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নিউজার্সি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। ভালবাসেন ফুটবল। করেন সরকারি চাকরি। ব্যক্তিগতভাবে দুই সন্তানের জনক তিনি। দুই ছেলেই ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেলে পড়ালেখা করছে। জীবন সংগ্রামে জয়ী এই রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয় নতুন সকাল। অনেক কথার ভিড়ে হারিয়ে যান তিনি। তার উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

নতুন সকাল : আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হলেন কিভাবে?
আজমল আলী : ১৯৭১ সালে বয়স কম হলেও আমি দেশ স্বাধীন হতে দেখেছি। এখনও স্পষ্ট মনে আছে সেইসব দুর্বিসহ দিনের কথা। সেই শিশুকালেই বঙ্গবন্ধুর দরাজ গলা আমার মনের মধ্যে দাগ কেটেছে। তখন থেকেই এই মহানায়ককে আমি মনে প্রাণে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় কি জানেন? আমি যেদিন আমেরিকায় পা দিলাম সেদিনই আমাদের জাতির পিতাকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। সেই থেকে মনের মধ্যে তীব্র কষ্ট নিয়ে চলেছি। ওই কষ্টই আমাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে আমার আওয়ামী লীগে জড়িত হবার পেছনে তৎকালিন সেক্রেটারি আব্দুস সালাম এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নূরুন্নবী ভাই ও জাফর ইকবাল ভাইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। কারণ প্রথমে আমি বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউজার্সির সঙ্গে জড়িত ছিলাম এবং সব কিছুতেই নবী ভাইকে ফলো করতাম। তার সান্নিধ্যে এসেই মূলত আমার সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া।

নতুন সকাল : সংগঠনের নেতৃত্বে এলেন কবে থেকে?
আজমল আলী : বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি অনেক আগে থেকেই। তবে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি ২০১২ সাল থেকে।

নতুন সকাল : বিদেশে বসে রাজনীতি করার মধ্যে স্বার্থ কি আছে?
আজমল আলী : আসলে রাজনীতি একটি আদর্শিক বিষয়। সেখানে ব্যক্তিস্বার্থ খুঁজতে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তবে স্বার্থ একটা আছে; তাহলো জাতীয় স্বার্থ! আপনি বলতে পারেন, বিদেশে বসে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করা কিভাবে সম্ভব? আমি বলব সম্ভব! আপনারা স্বীকার করেন আর নাই করেন, যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্বের এক নম্বর ক্ষমতাধর রাষ্ট্র সেটাতো ঠিক। তাদের নীতি, তাদের সিদ্ধান্তের উপর বিশ্বের অনেক দেশের অনেক কিছুই নির্ভর করে। এক্ষেত্রে একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই। বাংলাদেশে চারদলীয় জোট সরকার যখন ক্ষমতায়, এবং বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল যখন আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের হটাতে, তখন আমরা যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা মিলে অনেক লবিং করেছি। আমাদের সাংগঠনিক শক্তি থাকার কারণে আমরা অনেক সিনেটর-কংগ্রেসম্যানদের কাছে গিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা তুলে ধরতে পেরেছি। অনুরূপভাবে ১৯৯৬ সালেও আমরা বিএনপি সরকারকে হটাতে একই ধরণের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হই।

নতুন সকাল: তাহলে আপনি বলতে চান কোনো সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো বা উৎখাত করার জন্যই আপনাদের রাজনীতি?
আজমল আলী : বিষয়টিকে ওভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো-রাজনীতির মাধ্যমে কোনো কিছু আদায় করতে হলে আপনার সাংগঠনিক শক্তি থাকতে হবে। আমরা এখানে যারা রাজনীতি করি তারা সেই সাংগঠনিক শক্তি অর্জনের জন্যই একতাবদ্ধ হই। আর একতাবদ্ধ হলে অনেক কিছুই অর্জন করা সম্ভব। আমরা সেই চেষ্ঠায় করে যাচ্ছি।

নতুন সকাল : তাহলে নিউজার্সি আওয়ামী লীগ এত দ্বিধা বিভক্ত কেন?
আজমল আলী : এখানে আপনাকে একটা কথা বলে রাখি। কোনো সংগঠন যখন বড় আকার ধারণ করে তখন সেখানে কিছু মতবিরোধ, কিছু চাওয়া পাওয়ার বিষয় সামনে চলে আসে। পদ-পদবি, নেতৃত্ব নিয়ে কিছু ঝামেলা দেখা দেয়। নিউজার্সি আওয়ামী লীগও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে আমরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বলিষ্ট নেতৃত্বে এসব সাংগঠনিক দূর্বলতা ইতিমধ্যে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছি। আশা করছি খুব শিগগিরই সব মতবিরোধ ভুলে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে সঠিক নেতৃত্বের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হবো।

নতুন সকাল : শুনেছি নিউজার্সি আওয়ামী লীগ অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত-এটা কি ঠিক?
আজমল আলী : আপনি ঠিকই শুনেছেন। নিউজার্সি আওয়ামী লীগে তিনটি ভাগ দেখা দিয়েছিল। তার একটি আমার নেতৃত্বে। দ্বিতীয়টি সুজন আহমেদ সাজু ও সফিক গ্রুপ এবং তৃতীয়টি আব্দুল মালিক চুন্নু ও শামীম আহমেদের নেতৃত্বে গ্রুপ। তবে স্টেট আওয়ামী লীগের ভাগটি যুক্ত হয়ে এখন শুধুমাত্র নিউজার্সি আওয়ামী লীগ হিসেবেই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। আল্টান্টিক সিটিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা কাউন্সিল অধিবেশন ডেকে অন্য গ্রুপটিকেও একই প্লাটফরমে আনার চেষ্ঠা করছি।

নতুন সকাল : বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গী-সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ঘটছে তাকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
আজমল আলী : আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার সংগঠন। আমাদের মূল চেতনায় হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সেই চেষ্টায় করে যাচ্ছি। তবে বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক সংগঠন আছে যারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে সাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করে। এক্ষেত্রে আমি স্পষ্টভাবে বিএনপির কথা উল্লেখ করতে পারি। তারা স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবির চক্রকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করে। আপনারা জানেন, এই দলটি কখনো বাংলাদেশকে স্বীকার করে না। আর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে এধরণের মৌলবাদী শক্তি সব সময়ই তৎপর। এক্ষেত্রে অতীতে বিএনপি সরকারে থাকতে যেমন সাম্প্রদায়িকতাতে লালন-পালন করেছে, বর্তমান সরকার সেই শক্তিতে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। এটাই বিএনপি এবং আমাদের সরকারের মধ্যে পার্থক্য।

নতুন সকাল : সবাই যখন উন্নত বিশ্বে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে চান তখন আপনি আপনার ছেলেদের আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা না দিয়ে বাংলাদেশে পাঠালেন কেন?
আজমল আলী : এক্ষেত্রে আমার ভেতর দুটি বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত আমি চেয়েছি আমার ছেলেরা বাংলাদেশ এবং আমার দেশের কালচার সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে জ্ঞান লাভ করুক। দ্বিতীয়ত; আমেরিকার মত জায়গায় দুটি ছেলেকে মেডিকেলে পড়াতে আমার প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হতো। সুতরাং উভয় দিক থেকে আমি সফল। বিশেষ করে আমার ছেলেরা বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা নিতে গিয়ে বাংলা ভাষাটাকে ভালভাবেই রপ্ত করেছে। যেটা আমি মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম। তাছাড়া আমার দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কেও তারা ভালভাবে জানতে পারছে।

নতুন সকাল : তো রাজনীতির বাইরে আর কি ধরণের সামাজিক কাজকর্মে জড়িত আছেন?
আজমল আলী : রাজনীতির বাইরেও আমি অনেক ধরনের সামাজিক কাজে নিজেকে জড়িত রাখি। তবে আমি সৃজনশীল কাজে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করি। চার বছর আগে আমি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নিউজার্সির সেক্রেটারি ছিলাম। বর্তমান সেটি বাংলাদেশ সোসাইটি হিসাবে কমিউনিটির অনেক কাজ করছে। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ভাল লাগার বিষয় হচ্ছে ফুটবল। সেই ছোট বেলা থেকেই আমি খুবই ফুটবল প্রিয় মানুষ। প্রবাসে এসেও আমি সেই ধারা অব্যাহত রাখি। বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা স্পোটিং ক্লাব নামে একটি ফুটবল টিম পরিচালনা করছি। আমাদের এই ক্লাব নিউইয়র্ক স্পোর্টস কাউন্সিল লীগে খেলে দু’দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি মনে করি খেলাধূলাসহ যেকোনো সৃজনশীল কাজই পারে মানুষকে তার আপন মহিমায় উজ্জল করতে।

খেলাধূলার বাইরেও আমি অনেকগুলো সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। এখানে প্যাটারসনের ইউনিয়ন এভিনিউতে মসজিদ আল ফেরদৌসের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের ইলেকশন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ফোবানার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। জাগরণী শিল্পী গোষ্ঠী নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে আমাদের। আমি ছাড়াও এর প্রতিষ্ঠালগ্নে জড়িত ছিলেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী, শাহীনসহ আরো অনেকে। এছাড়া বিনা পারিশ্রমিকে আমি কমিউনিটির ডিজএ্যাবলদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সার্ভিস দিয়ে থাকি। এবি বা আমেরিকান-বাংলাদেশ এডুকেশন ফান্ড নামে একটি তহবিল গঠন করে আমরা বাংলাদেশে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাবৃত্তি প্রদান করছি। এ পর্যন্ত এই ফান্ড থেকে ১৯ জন ছাত্র-ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছি আমরা। এমন কি তাদের বাবা-মাকেও আমরা আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকি।

নতুন সকাল : এতক্ষণ কষ্ট করে ধৈর্য্য সহকারে নতুন সকালকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আজমল আলী : আপনার মাধ্যমে নতুন সকাল পরিবার এবং তার অগনিত পাঠককে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করি সবাই ভাল থাকবেন।

Comments

comments

X