শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:১০
শিরোনাম
Wednesday, March 1, 2017 1:32 am
A- A A+ Print

আইন অধিকার: মুসলিম উত্তরাধিকারেরা কে কতটুকু সম্পত্তি পান?

কেউ মারা গেলে তাঁর উত্তরাধিকারীরা (ওয়ারিশ) সম্পত্তির অংশ পান। জেনে নেওয়া যাক মুসলিম ওয়ারিশেরা কে কতটুকু অংশ পান।

বাবা: মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্রের পুত্র বা তাঁদের নিচে কেউ থাকলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন। তাঁরা কেউ না থাকলে পুরো সম্পত্তি পাবেন। এখানে যদি শুধু কন্যাসন্তান থাকে তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন এবং কন্যা বা কন্যারা সম্পত্তি পাওয়ার পর বাবার ১/৬ অংশের সঙ্গে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবেও সম্পত্তি পাবেন।

মা: মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মা মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকে এবং দুই বা তার বেশি ভাইবোন থাকে, তাহলেও ১/৬ অংশ মা পাবেন। তবে মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকলে এবং একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকলে মা ১/৩ অংশ পাবেন। আবার মৃত ব্যক্তির বাবা থাকলে এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ মা পাবেন।

স্ত্রী: মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান যতই কম বয়সী হোক না কেন, না থাকলে স্ত্রী ১/৪ অংশ পাবেন। মৃত ব্যক্তির সন্তান যতই নিচের দিকে হোক, থাকলে ১/৮ অংশ পাবেন স্ত্রী। যদি একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে এক স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে।

স্বামী: মৃত স্ত্রীর সন্তান যত নিচের দিকে হোক না কেন, কেউ না থাকলে স্বামী মৃত স্ত্রীর ১/২ অংশ পান। মৃত স্ত্রীর কোনো সন্তান থাকলে স্বামী ১/৪ অংশ পাবেন।

মেয়ে: মৃত ব্যক্তির একজন মেয়ে থাকলে এবং ছেলে না থাকলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাবেন। যদি একাধিক মেয়ে থাকে ২/৩ অংশ পাবেন এবং এ অংশ সব মেয়ের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে উভয়ই থাকে তাহলে ছেলে যা পাবেন, মেয়ে বা মেয়েরা তার অর্ধেক পাবেন।

ছেলে: ছেলের অংশ নির্দিষ্ট করা নেই। ছেলে সব সময় অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে সম্পত্তি পান। ছেলে সব সময় মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পাবেন। মা, বাবা, স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর ছেলের অংশ নির্ধারিত হয়।

দাদা: মৃত ব্যক্তির বাবা থাকলে দাদা কোনো সম্পত্তি পান না। বাবা বেঁচে না থাকলে দাদা বাবার মতো ১/৬ অংশ পান। মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে ১/৬ অংশ পাবেন। আর সন্তান না থাকলে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবেও সম্পত্তি পাবেন।

দাদি-নানি: মৃত ব্যক্তির মাতা বা পিতা বেঁচে না থাকে তাহলে ১/৬ অংশ পাবেন। দাদির ক্ষেত্রে পিতা-মাতার মধ্যে কেউ বেঁচে থাকলে সম্পত্তি পাবেন না। নানির ক্ষেত্রে মা না থাকলে ১/৬ অংশ পাবেন। যদি দাদি ও নানি বেঁচে থাকেন, তাহলে ১/৬ অংশ দুজনের মধ্যে ভাগ হবে।

পুত্রের কন্যা: মৃতের কোনো সন্তান জীবিত না থাকলে মৃতের পুত্রের কন্যা বা নাতনি একজন থাকলে ১/২ অংশ পাবেন। আর একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাবেন। মৃতের এক কন্যা থাকলে পুত্রের কন্যা ১/৬ অংশ পাবেন। আর যদি পুত্রের পুত্র বা নাতি থাকে, তাহলে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে ২: ১ অনুপাতে ভাগ হবে।

আপন বোন: মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকলে পিতা, দাদা বা ভাই না থাকলে বোন একজন হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে ২/৩ অংশ পাবেন। আপন ভাই থাকলে বোনেরা অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে পাবেন ২: ১ অনুপাতে। মৃত ব্যক্তির কন্যা অথবা পুত্রর কন্যা থাকলে বোন অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে অংশ পাবেন।

এ ছাড়া বৈপিত্রেয় বোন এবং বৈপিত্রেয় ভাইও সম্পত্তির অংশ পান। এখানে মনে রাখতে হবে সন্তানসন্ততি বলতে পুত্র, পুত্রের পুত্র যত নিচের দিকে হোক এবং পুত্রের কন্যা বোঝায়।

দাদার আগে বাবা মারা গেলে সন্তানদের অংশ
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুসারে দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় বাবা মারা গেলে মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা দাদার মৃত্যুর পর দাদার সম্পত্তি পাবেন। সন্তানদের বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় যেটুকু সম্পত্তি পেতেন, সমপরিমাণ সম্পত্তি সন্তানেরা পাবেন। তবে ১৯৬১ সালের ১৬ জুলাইয়ের আগে কেউ মারা গেলে তাঁদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে না।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

আইন অধিকার: মুসলিম উত্তরাধিকারেরা কে কতটুকু সম্পত্তি পান?

Wednesday, March 1, 2017 1:32 am

কেউ মারা গেলে তাঁর উত্তরাধিকারীরা (ওয়ারিশ) সম্পত্তির অংশ পান। জেনে নেওয়া যাক মুসলিম ওয়ারিশেরা কে কতটুকু অংশ পান।

বাবা: মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্রের পুত্র বা তাঁদের নিচে কেউ থাকলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন। তাঁরা কেউ না থাকলে পুরো সম্পত্তি পাবেন। এখানে যদি শুধু কন্যাসন্তান থাকে তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন এবং কন্যা বা কন্যারা সম্পত্তি পাওয়ার পর বাবার ১/৬ অংশের সঙ্গে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবেও সম্পত্তি পাবেন।

মা: মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মা মোট সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকে এবং দুই বা তার বেশি ভাইবোন থাকে, তাহলেও ১/৬ অংশ মা পাবেন। তবে মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকলে এবং একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকলে মা ১/৩ অংশ পাবেন। আবার মৃত ব্যক্তির বাবা থাকলে এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ মা পাবেন।

স্ত্রী: মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান যতই কম বয়সী হোক না কেন, না থাকলে স্ত্রী ১/৪ অংশ পাবেন। মৃত ব্যক্তির সন্তান যতই নিচের দিকে হোক, থাকলে ১/৮ অংশ পাবেন স্ত্রী। যদি একাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে এক স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে।

স্বামী: মৃত স্ত্রীর সন্তান যত নিচের দিকে হোক না কেন, কেউ না থাকলে স্বামী মৃত স্ত্রীর ১/২ অংশ পান। মৃত স্ত্রীর কোনো সন্তান থাকলে স্বামী ১/৪ অংশ পাবেন।

মেয়ে: মৃত ব্যক্তির একজন মেয়ে থাকলে এবং ছেলে না থাকলে মোট সম্পত্তির অর্ধেক পাবেন। যদি একাধিক মেয়ে থাকে ২/৩ অংশ পাবেন এবং এ অংশ সব মেয়ের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে। যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে উভয়ই থাকে তাহলে ছেলে যা পাবেন, মেয়ে বা মেয়েরা তার অর্ধেক পাবেন।

ছেলে: ছেলের অংশ নির্দিষ্ট করা নেই। ছেলে সব সময় অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে সম্পত্তি পান। ছেলে সব সময় মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পাবেন। মা, বাবা, স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর ছেলের অংশ নির্ধারিত হয়।

দাদা: মৃত ব্যক্তির বাবা থাকলে দাদা কোনো সম্পত্তি পান না। বাবা বেঁচে না থাকলে দাদা বাবার মতো ১/৬ অংশ পান। মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে ১/৬ অংশ পাবেন। আর সন্তান না থাকলে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবেও সম্পত্তি পাবেন।

দাদি-নানি: মৃত ব্যক্তির মাতা বা পিতা বেঁচে না থাকে তাহলে ১/৬ অংশ পাবেন। দাদির ক্ষেত্রে পিতা-মাতার মধ্যে কেউ বেঁচে থাকলে সম্পত্তি পাবেন না। নানির ক্ষেত্রে মা না থাকলে ১/৬ অংশ পাবেন। যদি দাদি ও নানি বেঁচে থাকেন, তাহলে ১/৬ অংশ দুজনের মধ্যে ভাগ হবে।

পুত্রের কন্যা: মৃতের কোনো সন্তান জীবিত না থাকলে মৃতের পুত্রের কন্যা বা নাতনি একজন থাকলে ১/২ অংশ পাবেন। আর একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাবেন। মৃতের এক কন্যা থাকলে পুত্রের কন্যা ১/৬ অংশ পাবেন। আর যদি পুত্রের পুত্র বা নাতি থাকে, তাহলে অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে ২: ১ অনুপাতে ভাগ হবে।

আপন বোন: মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকলে পিতা, দাদা বা ভাই না থাকলে বোন একজন হলে ১/২ অংশ এবং একাধিক হলে ২/৩ অংশ পাবেন। আপন ভাই থাকলে বোনেরা অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে পাবেন ২: ১ অনুপাতে। মৃত ব্যক্তির কন্যা অথবা পুত্রর কন্যা থাকলে বোন অবশিষ্ট ভোগী হিসেবে অংশ পাবেন।

এ ছাড়া বৈপিত্রেয় বোন এবং বৈপিত্রেয় ভাইও সম্পত্তির অংশ পান। এখানে মনে রাখতে হবে সন্তানসন্ততি বলতে পুত্র, পুত্রের পুত্র যত নিচের দিকে হোক এবং পুত্রের কন্যা বোঝায়।

দাদার আগে বাবা মারা গেলে সন্তানদের অংশ
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুসারে দাদা জীবিত থাকা অবস্থায় বাবা মারা গেলে মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা দাদার মৃত্যুর পর দাদার সম্পত্তি পাবেন। সন্তানদের বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় যেটুকু সম্পত্তি পেতেন, সমপরিমাণ সম্পত্তি সন্তানেরা পাবেন। তবে ১৯৬১ সালের ১৬ জুলাইয়ের আগে কেউ মারা গেলে তাঁদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য হবে না।

Comments

comments

X