বুধবার, ২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং, ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:৪৬
শিরোনাম
Tuesday, September 5, 2017 4:15 am
A- A A+ Print

আইএসে যোগদানের প্রচেষ্টা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশি-আমেরিকান পারভেজ আহমেদ (২২) সিরিয়া যাওয়ার প্রচেষ্টা চালানোর অভিযোগে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের (অস্ত্র/অর্থ ও অন্যান্য) সমর্থন প্রদানের অভিযোগে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) পারভেজকে গ্রেপ্তারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি এম রোড বলেন, পারভেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি আমেরিকানসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালান।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পারভেজ এ বছরের জুনে সৌদি আরব ভ্রমণ করেন। ওই সময়ে তিনি আইএসআই জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে সিরিয়া সীমান্তে আটক করা হয়।

এ বছরের ১৭ জুলাই মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) যৌথ টাস্কফোর্স পারভেজ আহমেদের কম্পিউটার খতিয়ে দেখার জন্য সমন সংগ্রহ করেন। এ অভিযানে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, পারভেজ আহমেদ উগ্রবাদী ইসলামি ধর্মগুরুদের ধর্মীয় বক্তৃতা (রেকর্ড করা) শুনতেন।

কর্মকর্তারা বলেন, সোমবার (২৮ আগস্ট) যৌথ টাস্কফোর্স পারভেজ আহমেদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস খতিয়ে দেখার জন্য দ্বিতীয় সমন সংগ্রহ করেন। পারভেজকে আটক করার সময় এসব ডিভাইস তাঁর সঙ্গে ছিল। এসব ডিভাইসে প্রাপ্ত বার্তায় তার আইএস-নিয়ন্ত্রিত সিরিয়া এলাকায় প্রবেশের এবং শহীদ হওয়ার উদ্দেশ্যে আইএসে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সোমবার পারভেজকে আমেরিকায় প্রেরণ করা হয়। জেএফকে বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দণ্ডিত হলে ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে পারভেজকে।

এফবিআইয়ের সহকারী ভারপ্রাপ্ত পরিচালক উইলিয়াম এফ. সুইনী জুনিয়র বলেন, ইতিপূর্বে অন্যান্য জঙ্গিরা পারভেজ আহমেদের মতোই একই পন্থায় জঙ্গি গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন। পারভেজের সফরের ভ্রমণ প্রক্রিয়ার ইতিও একইভাবে ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসে ভর্তির জন্য সৌদি আরব থেকে গত জুনে সিরিয়ায় যাওয়ার পথে পারভেজকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ওজোন পার্কে তার বাবার বাড়িতে খোঁজ-খবর নিতে থাকে এফবিআই। ১৭ জুলাই পারভেজের কম্পিউটারসহ যাবতীয় কাগজপত্র অনুসন্ধান করে এফবিআই নিশ্চিত হয় যে, তিনি আইএসে ভর্তির জন্যই সৌদি আরব থেকে সিরিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এফবিআইয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি পুলিশ তাকে নিউইয়র্কে পাঠায়। জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের পরই এফবিআই পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ব্রুকলিনে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হয় পারভেজকে।

মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নাগরিকত্বও পান পারভেজ। নিউইয়র্কের ওজন পার্ক এলাকায় তার পরিবারের বাস। দেশের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় বলে জানা গেছে। মেধাবী ছাত্র হিসেবে নিউইয়র্কের সেরা ‘স্টাইভ্যাসেন্ট হাই স্কুলে’ ভর্তির সুযোগ পায়। এরপর হান্টার কলেজে ভর্তি হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘হঠাৎ করেই বদলে যায় পারভেজ। সবকিছু ছেড়ে সে নীরব হয়ে যায়। গত জুন মাসে বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে যায় পারভেজ। সেখান থেকেই উধাও হয়ে যায়।

আদালতে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী মা-বাবাকে পারভেজ লিখে জানায় যে, ‘আমি যদি কোনো কারণে নিষ্ঠুর হয়ে অতিরিক্ত কিছু করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমি যা তোমাদেরকে শেখাতে চেয়েছি দয়া করে তা স্মরণ করিও।’ পারভেজের বিরুদ্ধে আইএসকে হত্যাযজ্ঞে যাবতীয় সহায়তা এবং আইএসের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন তথা অসহায়-নিরপরাধ মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পারভেজকে ব্রুকলিনে ফেডারেল কোর্টের জজ জেমস ওরেনস্টাইনের আদালতে হাজির করা হয়। তাকে জামিন ছাড়া আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

আইএসে যোগদানের প্রচেষ্টা, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

Tuesday, September 5, 2017 4:15 am

বাংলাদেশি-আমেরিকান পারভেজ আহমেদ (২২) সিরিয়া যাওয়ার প্রচেষ্টা চালানোর অভিযোগে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের (অস্ত্র/অর্থ ও অন্যান্য) সমর্থন প্রদানের অভিযোগে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) পারভেজকে গ্রেপ্তারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি এম রোড বলেন, পারভেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি আমেরিকানসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালান।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পারভেজ এ বছরের জুনে সৌদি আরব ভ্রমণ করেন। ওই সময়ে তিনি আইএসআই জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে সিরিয়া সীমান্তে আটক করা হয়।

এ বছরের ১৭ জুলাই মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) যৌথ টাস্কফোর্স পারভেজ আহমেদের কম্পিউটার খতিয়ে দেখার জন্য সমন সংগ্রহ করেন। এ অভিযানে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, পারভেজ আহমেদ উগ্রবাদী ইসলামি ধর্মগুরুদের ধর্মীয় বক্তৃতা (রেকর্ড করা) শুনতেন।

কর্মকর্তারা বলেন, সোমবার (২৮ আগস্ট) যৌথ টাস্কফোর্স পারভেজ আহমেদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস খতিয়ে দেখার জন্য দ্বিতীয় সমন সংগ্রহ করেন। পারভেজকে আটক করার সময় এসব ডিভাইস তাঁর সঙ্গে ছিল। এসব ডিভাইসে প্রাপ্ত বার্তায় তার আইএস-নিয়ন্ত্রিত সিরিয়া এলাকায় প্রবেশের এবং শহীদ হওয়ার উদ্দেশ্যে আইএসে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সোমবার পারভেজকে আমেরিকায় প্রেরণ করা হয়। জেএফকে বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দণ্ডিত হলে ২০ বছর কারাগারে থাকতে হবে পারভেজকে।

এফবিআইয়ের সহকারী ভারপ্রাপ্ত পরিচালক উইলিয়াম এফ. সুইনী জুনিয়র বলেন, ইতিপূর্বে অন্যান্য জঙ্গিরা পারভেজ আহমেদের মতোই একই পন্থায় জঙ্গি গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন। পারভেজের সফরের ভ্রমণ প্রক্রিয়ার ইতিও একইভাবে ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসে ভর্তির জন্য সৌদি আরব থেকে গত জুনে সিরিয়ায় যাওয়ার পথে পারভেজকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ওজোন পার্কে তার বাবার বাড়িতে খোঁজ-খবর নিতে থাকে এফবিআই। ১৭ জুলাই পারভেজের কম্পিউটারসহ যাবতীয় কাগজপত্র অনুসন্ধান করে এফবিআই নিশ্চিত হয় যে, তিনি আইএসে ভর্তির জন্যই সৌদি আরব থেকে সিরিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এফবিআইয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি পুলিশ তাকে নিউইয়র্কে পাঠায়। জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের পরই এফবিআই পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ব্রুকলিনে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টে সোপর্দ করা হয় পারভেজকে।

মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নাগরিকত্বও পান পারভেজ। নিউইয়র্কের ওজন পার্ক এলাকায় তার পরিবারের বাস। দেশের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানায় বলে জানা গেছে। মেধাবী ছাত্র হিসেবে নিউইয়র্কের সেরা ‘স্টাইভ্যাসেন্ট হাই স্কুলে’ ভর্তির সুযোগ পায়। এরপর হান্টার কলেজে ভর্তি হন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘হঠাৎ করেই বদলে যায় পারভেজ। সবকিছু ছেড়ে সে নীরব হয়ে যায়। গত জুন মাসে বাবার সঙ্গে সৌদি আরবে যায় পারভেজ। সেখান থেকেই উধাও হয়ে যায়।

আদালতে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী মা-বাবাকে পারভেজ লিখে জানায় যে, ‘আমি যদি কোনো কারণে নিষ্ঠুর হয়ে অতিরিক্ত কিছু করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমি যা তোমাদেরকে শেখাতে চেয়েছি দয়া করে তা স্মরণ করিও।’ পারভেজের বিরুদ্ধে আইএসকে হত্যাযজ্ঞে যাবতীয় সহায়তা এবং আইএসের সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন তথা অসহায়-নিরপরাধ মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পারভেজকে ব্রুকলিনে ফেডারেল কোর্টের জজ জেমস ওরেনস্টাইনের আদালতে হাজির করা হয়। তাকে জামিন ছাড়া আটকাদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Comments

comments

X