বুধবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং, ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:০২
শিরোনাম
Friday, August 4, 2017 11:48 pm | আপডেটঃ August 05, 2017 12:11 AM
A- A A+ Print

অবশেষে আসছে অস্ট্রেলিয়া

আর্থিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে শান্তিচুক্তিটা হলো। যার মধ্য দিয়ে চূড়ান্তে পৌঁছে যাওয়া গত ১০ মাসের তিক্ততা ভোলা সম্ভব বলেও আশাবাদী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। মেলবোর্নে গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার নিকলসনের পাশে বসে বলছিলেন সে কথাই, ‘আমি নিশ্চিত যে এই গ্রীষ্মের প্রথম বলটি হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গত কিছুদিনে ঘটে যাওয়া সব ব্যাপার পেছনে ফেলতে পারব। ’

আর গ্রীষ্মের সেই প্রথম বলটি যে বাংলাদেশেই হচ্ছে, সিএ এবং এসিএর সমঝোতায় তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও দূর হলো পুরোপুরি। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে অনড় থাকায় ভারতে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে সফর এবং নিজেদের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজও ফেঁসে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। কিন্তু ওই দুটির আগে বাংলাদেশ সফর বাঁচাতেই দ্রুত সমঝোতা হওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল। কারণ স্টিভেন স্মিথদের ঢাকায়

আসার সময় ঘনিয়ে আসছিল। ১৮ আগস্ট দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আসার সপ্তাহ দুয়েক আগেই হয়ে গেল সমাধান।

যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) খুশীর ফোয়ারা বইয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। মুখপাত্র জালাল ইউনুস অবশ্য এটাও জানাচ্ছিলেন যে তাঁদের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশাটাই জোরদার ছিল বেশি, ‘বিসিবি কিন্তু কখনো এত টেনশনে ছিল না। ওটা ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

সমস্যাটা ছিল ক্রিকেট বোর্ড আর খেলোয়াড়দের সংস্থার মধ্যে। আমরা জানতাম যে একদিন না একদিন তারা এটা সমাধান করে ফেলবেই। ’ এমনকি সমাধান আরো অনেক বিলম্বে হলেও নাকি সিরিজ আয়োজনে কোনো সমস্যা হতো না বিসিবির, ‘সিরিজ আগস্টের শেষে শুরু হবে বলে আমাদের হাতে সময়ও ছিল। আবার এই আত্মবিশ্বাসও ছিল যে শুরুর এক দিন আগে সমাধান হলেও আমরা সিরিজ আয়োজন করতে পারতাম। প্রস্তুতিটা আমরা সেভাবেই নিয়ে রেখেছিলাম। ’

সিএ এবং এসিএর মধ্যে এমওইউ (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) আগেই হয়ে যাওয়াতে এখন অবশ্য সময় নিয়েই সিরিজ ব্যবস্থাপনার কথা ভাবতে পারবে বিসিবি। সেই সঙ্গে স্মিথরাও আসতে পারছেন সুস্থির হয়েই। কারণ যে দাবিতে ধর্মঘটে গিয়েছিলেন, সেটি ভালোভাবেই আদায় করা গেছে। তাই ভীষণ উচ্ছ্বসিত শুনিয়েছে এসিএর প্রধান নির্বাহীর কণ্ঠও, ‘আয় ভাগাভাগির পদ্ধতি ধরে রাখা এবং অর্থের অঙ্ক বাড়িয়ে নিতে পারায় নিশ্চিত হয়েছে যে নারী-পুরুষ ও ঘরোয়া-আন্তর্জাতিক সব ক্রিকেটার সিএর আয়ের ন্যায্য ভাগ পেতে যাচ্ছে। ক্রিকেটার এবং খেলাটির জন্য এটি দারুণ খবর। ’ তাঁর বক্তব্যকে বিজয়ীর প্রতিক্রিয়া বলে মনে হলেও সাদারল্যান্ড দাবি করেছেন, এই চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই পক্ষই কিছু না কিছু ছাড় দিয়েছে। যদিও মৌলিক ব্যাপারটিতে ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়াকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সিএ ১৯৯৭ সাল থেকে চলে আসা বেতন কাঠামো ভাঙতে চাওয়াতেই ঝামেলার শুরু। আগে বোর্ডের আয়ের নির্দিষ্ট একটি অংশ ভাগ করে দেওয়া হতো সিএর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড় এবং ফার্স্ট ক্লাসে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে। নতুন চুক্তিতে তৃণমূলে বেশি বিনিয়োগ করতে চাওয়া বোর্ড জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য আয়ের অংশ বাড়িয়ে ফার্স্ট ক্লাসের ক্রিকেটারদের ছেঁটে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু জাতীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের সুবিধা নিয়ে কেটে না পড়ে বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষায় উল্টো একজোট হয়ে যান। তাতেই বাতিল হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। বাংলাদেশ সফরও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনার মুখে সমাধান হয়ে গেল সমস্যার এবং এই সুযোগে স্মিথদের আয়ও বেড়ে গেল অনেক। সাদারল্যান্ড যেমন বলেছেন, নতুন চুক্তির পর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার সব দলীয় খেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আগের বেতন কাঠামোয় সিএর আয়ের ২৬ শতাংশ দেওয়া হতো ক্রিকেটারদের। আগামী পাঁচ বছরে বোর্ডের সম্ভাব্য আয় থেকে ক্রিকেটাররা পাবেন ২৭.৫ শতাংশ। নতুন চুক্তিতে আয় অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে নারী ক্রিকেটারদেরও। ৭৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বেড়ে তাঁদের পারিশ্রমিক গিয়ে দাঁড়াচ্ছে পাঁচ কোটি ৫২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের খেলাধুলার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বেতন বাড়ার ঘটনা এটিই বলে দাবি করেছেন এসিএর প্রধান নির্বাহী নিকলসন। আর সিএ যে তৃণমূলে বিনিয়োগ করতে চাইছে, নতুন চুক্তিতে আছে সেটির বন্দোবস্তও। ঠিক হয়েছে বোর্ডের আয় যদি সম্ভাব্য আয় থেকে বেশি হয়, সেই বাড়তি অংশটা থেকে তৃণমূলে ব্যয় করা হবে। তখন ক্রিকেটাররা পাবেন এর ১৯ শতাংশ আর বাকিটা যাবে তৃণমূলে। সূত্র : ক্রিকইনফো, এএফপি, সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

Comments

Comments!

 Natunsokal.com

অবশেষে আসছে অস্ট্রেলিয়া

Friday, August 4, 2017 11:48 pm | আপডেটঃ August 05, 2017 12:11 AM

আর্থিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে শান্তিচুক্তিটা হলো। যার মধ্য দিয়ে চূড়ান্তে পৌঁছে যাওয়া গত ১০ মাসের তিক্ততা ভোলা সম্ভব বলেও আশাবাদী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। মেলবোর্নে গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার নিকলসনের পাশে বসে বলছিলেন সে কথাই, ‘আমি নিশ্চিত যে এই গ্রীষ্মের প্রথম বলটি হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা গত কিছুদিনে ঘটে যাওয়া সব ব্যাপার পেছনে ফেলতে পারব। ’

আর গ্রীষ্মের সেই প্রথম বলটি যে বাংলাদেশেই হচ্ছে, সিএ এবং এসিএর সমঝোতায় তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও দূর হলো পুরোপুরি। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে অনড় থাকায় ভারতে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে সফর এবং নিজেদের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজও ফেঁসে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। কিন্তু ওই দুটির আগে বাংলাদেশ সফর বাঁচাতেই দ্রুত সমঝোতা হওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছিল। কারণ স্টিভেন স্মিথদের ঢাকায়

আসার সময় ঘনিয়ে আসছিল। ১৮ আগস্ট দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আসার সপ্তাহ দুয়েক আগেই হয়ে গেল সমাধান।

যা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) খুশীর ফোয়ারা বইয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। মুখপাত্র জালাল ইউনুস অবশ্য এটাও জানাচ্ছিলেন যে তাঁদের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আশাটাই জোরদার ছিল বেশি, ‘বিসিবি কিন্তু কখনো এত টেনশনে ছিল না। ওটা ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

সমস্যাটা ছিল ক্রিকেট বোর্ড আর খেলোয়াড়দের সংস্থার মধ্যে। আমরা জানতাম যে একদিন না একদিন তারা এটা সমাধান করে ফেলবেই। ’ এমনকি সমাধান আরো অনেক বিলম্বে হলেও নাকি সিরিজ আয়োজনে কোনো সমস্যা হতো না বিসিবির, ‘সিরিজ আগস্টের শেষে শুরু হবে বলে আমাদের হাতে সময়ও ছিল। আবার এই আত্মবিশ্বাসও ছিল যে শুরুর এক দিন আগে সমাধান হলেও আমরা সিরিজ আয়োজন করতে পারতাম। প্রস্তুতিটা আমরা সেভাবেই নিয়ে রেখেছিলাম। ’

সিএ এবং এসিএর মধ্যে এমওইউ (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) আগেই হয়ে যাওয়াতে এখন অবশ্য সময় নিয়েই সিরিজ ব্যবস্থাপনার কথা ভাবতে পারবে বিসিবি। সেই সঙ্গে স্মিথরাও আসতে পারছেন সুস্থির হয়েই। কারণ যে দাবিতে ধর্মঘটে গিয়েছিলেন, সেটি ভালোভাবেই আদায় করা গেছে। তাই ভীষণ উচ্ছ্বসিত শুনিয়েছে এসিএর প্রধান নির্বাহীর কণ্ঠও, ‘আয় ভাগাভাগির পদ্ধতি ধরে রাখা এবং অর্থের অঙ্ক বাড়িয়ে নিতে পারায় নিশ্চিত হয়েছে যে নারী-পুরুষ ও ঘরোয়া-আন্তর্জাতিক সব ক্রিকেটার সিএর আয়ের ন্যায্য ভাগ পেতে যাচ্ছে। ক্রিকেটার এবং খেলাটির জন্য এটি দারুণ খবর। ’ তাঁর বক্তব্যকে বিজয়ীর প্রতিক্রিয়া বলে মনে হলেও সাদারল্যান্ড দাবি করেছেন, এই চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই পক্ষই কিছু না কিছু ছাড় দিয়েছে। যদিও মৌলিক ব্যাপারটিতে ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়াকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

সিএ ১৯৯৭ সাল থেকে চলে আসা বেতন কাঠামো ভাঙতে চাওয়াতেই ঝামেলার শুরু। আগে বোর্ডের আয়ের নির্দিষ্ট একটি অংশ ভাগ করে দেওয়া হতো সিএর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড় এবং ফার্স্ট ক্লাসে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে। নতুন চুক্তিতে তৃণমূলে বেশি বিনিয়োগ করতে চাওয়া বোর্ড জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য আয়ের অংশ বাড়িয়ে ফার্স্ট ক্লাসের ক্রিকেটারদের ছেঁটে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু জাতীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের সুবিধা নিয়ে কেটে না পড়ে বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষায় উল্টো একজোট হয়ে যান। তাতেই বাতিল হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। বাংলাদেশ সফরও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনার মুখে সমাধান হয়ে গেল সমস্যার এবং এই সুযোগে স্মিথদের আয়ও বেড়ে গেল অনেক। সাদারল্যান্ড যেমন বলেছেন, নতুন চুক্তির পর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার সব দলীয় খেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আগের বেতন কাঠামোয় সিএর আয়ের ২৬ শতাংশ দেওয়া হতো ক্রিকেটারদের। আগামী পাঁচ বছরে বোর্ডের সম্ভাব্য আয় থেকে ক্রিকেটাররা পাবেন ২৭.৫ শতাংশ। নতুন চুক্তিতে আয় অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে নারী ক্রিকেটারদেরও। ৭৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বেড়ে তাঁদের পারিশ্রমিক গিয়ে দাঁড়াচ্ছে পাঁচ কোটি ৫২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের খেলাধুলার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বেতন বাড়ার ঘটনা এটিই বলে দাবি করেছেন এসিএর প্রধান নির্বাহী নিকলসন। আর সিএ যে তৃণমূলে বিনিয়োগ করতে চাইছে, নতুন চুক্তিতে আছে সেটির বন্দোবস্তও। ঠিক হয়েছে বোর্ডের আয় যদি সম্ভাব্য আয় থেকে বেশি হয়, সেই বাড়তি অংশটা থেকে তৃণমূলে ব্যয় করা হবে। তখন ক্রিকেটাররা পাবেন এর ১৯ শতাংশ আর বাকিটা যাবে তৃণমূলে। সূত্র : ক্রিকইনফো, এএফপি, সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

Comments

comments

X